১৮ বছরে পা রাখার আগেই বিয়ে হয়েছিল। সন্তানও ধারণ করে। সরকারি হাসপাতালে সন্তান প্রসবের পরে প্রকাশ্যে আশে সেই ঘটনা। তৎপর হয় পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় নাবালিকার স্বামীকে। নাবালিকাকে বিয়ে ও ধর্ষণের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করল পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড় থানার পুলিশ। মঙ্গলবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে হাজির করানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার ইন্দাস থানা এলাকার এক নাবালিকার সঙ্গে শক্তিগড় থানা এলাকার ওই যুবকের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পরে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে ওই নাবালিকা। গত রবিবার বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি সন্তান প্রসব করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে বিষয়টি। এর পর হাসপাতালের তরফে বর্ধমান থানায় খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রের খবর, ঘটনার পর বর্ধমান থানায় জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়। পরে মামলাটি শক্তিগড় থানায় পাঠানো হয়। শক্তিগড় থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে নাবালিকাকে বিয়ে এবং ধর্ষণের অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে।
নাবালিকা বিয়ে রুখতে প্রশাসনের তরফে লাগাতার প্রচার ও সচেতনতা কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। স্বাস্থ্য দফতরের একটি রিপোর্টে রাজ্যে নাবালিকা বিবাহ ও সন্তান প্রসবের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগজনক ছবি উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, এই প্রবণতায় রাজ্যে মুর্শিদাবাদ প্রথম এবং পূর্ব বর্ধমান তৃতীয় স্থানে রয়েছে। রিপোর্ট প্রকাশের পরে জেলায় নাবালিকা বিয়ে রুখতে নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।