E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

কয়েকটি ওয়ার্ড ভাঙার যুক্তিতে প্রশ্ন বিরোধীদের

কিন্তু অন্য কয়েকটি ওয়ার্ডের ক্ষেত্রে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ১৪ নম্বর ওয়ার্ড ভাঙা হয়েছে। একটিতে ৭টি বুথ, অন্যটিতে ৯টি বুথ রাখা হয়েছে।

সুব্রত সীট

শেষ আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:২৩
দুর্গাপুর পুরসভা।

দুর্গাপুর পুরসভা।

ওয়ার্ডের সংখ্যা আরও দশটি বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে দুর্গাপুর পুরসভায়। সে জন্য পুরনো দশটি ওয়ার্ড ভেঙে কুড়িটি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে খসড়া প্রস্তাবে। কিন্তু বিভাজনের রূপরেখা নিয়ে কিছু সংশয় রয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সব রাজনৈতিক দলকে আজ, সোমবারের মধ্যে আপত্তি বা পরামর্শ লিখিত আকারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

খসড়া অনুযায়ী, ১, ৪, ১৪, ২২, ২৬, ২৭, ২৮, ৩০, ৩৫ ও ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডকে ভাঙা হচ্ছে। ১ নম্বর ওয়ার্ডের আয়তন সবথেকে বেশি, ১২.৮০ বর্গ কিলোমিটার। ভোটার সংখ্যা ১৭,২৭৯। এত বিশাল এলাকা ও বিপুল জনসংখ্যার ওয়ার্ড ভেঙে দেওয়ায় কার্যত আপত্তি নেই কারও। অভিজাত এলাকা সিটি সেন্টার নিয়ে গড়া ২২ নম্বর ওয়ার্ডের এলাকা ৩.৬৫ কিলোমিটার। কিন্তু ভোটার সংখ্যা ১৫,৫৮৬। উপযুক্ত নাগরিক পরিষেবা দিতে এই ওয়ার্ড ভাঙাতেও আপত্তি নেই বিরোধীদের।

কিন্তু অন্য কয়েকটি ওয়ার্ডের ক্ষেত্রে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ১৪ নম্বর ওয়ার্ড ভাঙা হয়েছে। একটিতে ৭টি বুথ, অন্যটিতে ৯টি বুথ রাখা হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, ওয়ার্ডটি ভাঙার পিছনে অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে। তাই প্রস্তাবিত দুই ওয়ার্ডে বুথের সংখ্যা সমান রাখা হয়নি। ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান এলাকা ১.৭০ বর্গ কিলোমিটার। ভোটার সংখ্যা ১১,৬২৫। সেটি ভাঙা হয়নি। অথচ, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডেরও একই আয়তন। ভোটার সংখ্যা ১১,৯৭৩। সেটি ভাঙা হয়েছে। বিরোধীদের প্রশ্ন, ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কেন ভাঙা হল না? আবার, ২৬ নম্বর ভেঙে প্রস্তাবিত নতুন দুই ওয়ার্ডে বুথ সংখ্যা ৯ ও ৬টি। বিরোধীদের একাংশের দাবি, সেটি ৮ ও ৭ হলে ভোটার সংখ্যায় কিছুটা সমতা বজায় থাকত।

সম্প্রতি মহকুমাশাসকের (দুর্গাপুর) কার্যালয়ে সর্বদল সভায় রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের সামনে খসড়া প্রস্তাব তুলে ধরে প্রশাসন। মমতা তৃণমূলের নেতা উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় বলেন, “আপত্তির জায়গাগুলি নিয়ে দলে আলোচনা হচ্ছে। লিখিত ভাবে তা জানানো হবে প্রশাসনকে।” কংগ্রেসের প্রাক্তন জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, “একাধিক ওয়ার্ড ভাঙার রূপরেখা দেখে মনে হচ্ছে, বিশেষ কোনও উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন ওয়ার্ডের সীমানা বিন্যাস করা হচ্ছে। তা ছাড়া, এসআইআরে বাতিল ভোটারদের বাইরে রেখে নির্বাচন অর্থহীন। যোগ্য ভোটারেরা যাতে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করার পরেই কোনও নির্বাচন হওয়া উচিত।” সিপিএমের বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “২০১১ সালের জনবিন্যাস অনুযায়ী ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। মাঝের বছরগুলিতে বহু জায়গায় জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। তাই ওয়ার্ড বিন্যাসের আসল উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হওয়া নিয়ে সংশয় থাকছে।”

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জনসংখ্যা, জনঘনত্ব, ভৌগোলিক আয়তন, ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং অর্থনৈতিক দিক মাথায় রেখে দশটি নতুন ওয়ার্ড যুক্ত করার নির্দেশ রাজ্য সরকারের তরফে দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী, ১২,০০০ বা তার কাছাকাছি ভোটার যে ওয়ার্ডগুলিতে রয়েছে, সেগুলি ভাঙা হয়েছে। সেক্ষেত্রে ১০,৭৩৪ ভোটার সংখ্যার ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কেন ভাঙা হচ্ছে? প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটার সংখ্যার পাশাপাশি, ওয়ার্ডের আয়তন ১০ বর্গ কিলোমিটার বা তার বেশি কি না, সেটিও দেখা হয়েছে। সে হিসাবেই ১০.৯০ বর্গ কিমি আয়তনের ওই ওয়ার্ড ভাঙার প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Durgapur

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy