জেলার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা বর্ধমান আদালত চত্বর। প্রতিদিন সেখানে আসেন কয়েক হাজার বিচারপ্রার্থী। আদালত চত্বরে ঢুকতেই চোখে পড়ে, চার দিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে আবর্জনা, দেওয়ালে পানের পিকের দাগ, অপরিষ্কার নর্দমা এবং নোংরা শৌচালয়।
বর্ধমান বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সদন তা-র অভিযোগ, আদালত চত্বর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব আদালত প্রশাসনের। তাঁর দাবি, এই কাজের জন্য চতুর্থ শ্রেণির দশ জন কর্মীও রয়েছেন। তাঁদের বেতন বাবদ রাজ্য সরকার প্রতি মাসে প্রায় তিন লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়। কিন্তু আদালত চত্বর দেখে তা বোঝার উপায় নেই। পরিস্থিতি এমনই যে, বার অ্যাসোসিয়েশনই প্রতি মাসে দশ হাজার টাকা ব্যয়ে তিন জন কর্মী নিয়োগ করতে হয়েছে। তাঁরাই আদালত চত্বর, শৌচাগার ও নর্দমা পরিষ্কারের কাজ করছেন।
আদালতে আসা রানু শেখ নামে এক জন বলেন, "পরিবারের সদস্যের মামলার কাজে প্রায়ই আদালতে আসতে হয়। ঘণ্টার পরে ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু চার পাশের পরিবেশ এতই নোংরা যে, বসেথাকাও কঠিন হয়ে পড়ে।’’ আর এক বিচারপ্রার্থী পরিবারের সদস্য সোয়েল মোল্লার কথায়, ‘‘দেওয়ালের সর্বত্র পানের পিক, যেখানে সেখানে খাবারের প্যাকেট ও আবর্জনা পড়ে থাকে। আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এই পরিবেশ মোটেই কাম্য নয়।’’ একই অভিযোগ বিচারপ্রার্থী তপন বাউড়ির।তিনি বলেন, ‘‘সবচেয়েবেশি সমস্যা হয় শৌচালয় ব্যবহারে। নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় অনেক সময় ব্যবহারই করা যায় না।’’
আদালত প্রশাসন সূত্রের অবশ্য দাবি, আদালত চত্বর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মী রয়েছেন। তাঁরা নিয়মিত কাজ করেন। পাশাপাশি, আদালতের শৌচালয়গুলি পূর্ত দফতরের মাধ্যমে নতুন করে সংস্কারের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।