শিল্প গড়তে চেয়ে জমি মিলছে না, এমন অভিযোগ মাঝে মাঝেই ওঠে আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে। অন্য দিকে, শিল্প গড়ার নামে জমি নিয়ে বছরের পর বছর ধরে ফেলে রেখেছেন কেউ কেউ, এমন অভিযোগও রয়েছে। পড়ে থাকা জমি ফেরত নিয়ে নতুন উদ্যোগীদের দেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে বলে জানিয়েছে আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ (এডিডিএ)। কোন কোন জমি দীর্ঘদিন পড়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়।
এডিডিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, শিল্প গড়ার জন্য জমি নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করেই বরাদ্দ করা হয়। তাই যদি ‘প্ল্যান’ অনুমোদন হয়ে থাকে অথচ জমি পড়ে রয়েছে বলে দেখা যায়, তেমন জমি ফেরত নিতে পারে পর্ষদ। বিভিন্ন বণিক সংগঠনের তরফে মাঝে মাঝেই অভিযোগ করা হয়েছে, আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন শিল্পতালুকে বেশ কিছু উদ্যোগপতি জমি নিয়েছেন বহু বছর আগে। কিন্তু তাঁরা শিল্প না করে জমি ফেলে রেখেছেন। আরও অভিযোগ, কেউ কেউ সেই জমি আবার ভাড়ায় অন্যকে দিয়ে দিয়েছেন। অথচ নতুন উদ্যোগপতিরা জমি চেয়ে আবেদন করেও পাচ্ছেন না। শিল্প গড়ার নামে কম দামে জমি নিয়ে তা ফেলে রাখা বা অন্যকে ভাড়া দেওয়া— দু’টিই বেআইনি। তাই বণিক সংগঠনগুলির দাবি, ফেলে রাখা জমি ফেরত নিক এডিডিএ। নতুন যাঁরা শিল্প গড়তে এগিয়ে আসছেন তাঁদের সেই জমি দেওয়া হোক।
সূত্রের খবর, বণিক সংগঠনগুলি বার বার এমন দাবি তোলার পরে নড়েচড়ে বসে এডিডিএ। ২০২২ সালের শুরুতে এডিডিএ বোর্ড মিটিংয়ে বহু বছর ধরে অব্যবহৃত জমি ফেরত নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয় ২০০৫ সালের আগে জমি নিয়ে যাঁরা ফেলে রেখেছেন, তাঁদের জমি ফেরত দিতে বলা হবে। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পরে এডিডিএ তেমন ৯৫ জনের একটি তালিকা তৈরি করে। ওই বছর জুনে তাঁদের সবাইকে জমি ফেরত দেওয়ার নোটিস পাঠানো হয়। বলা হয়, ১৫ দিনের মধ্যে তাঁদের জমি কেন ফেরত নেওয়া হবে না, তা জানাতে হবে। তবে অধিকাংশ জমিই ফেরত আসেনি বলে এডিডিএ-র একটি সূত্রে জানা গিয়েছে।
রাজ্যে নতুন সরকার আসার পরে ফের বিষয়টি নিয়ে নড়াচড়া শুরু হয়। মাস খানেক আগে বিষয়টি নিয়ে এডিডিএ-তে বৈঠক হয়। ফেলে রাখা সব জমি ফেরত নিয়ে নতুন শিল্প গড়তে চাওয়া উদ্যোপতিদের তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে এডিডিএ সূত্রে জানা গিয়েছে। বিধায়ক চন্দ্রশেখর বলেন, “পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। নতুন নতুন শিল্পস্থাপনের প্রস্তাব আসছে। সেগুলি রাজ্য স্তরে পাঠানো হচ্ছে। জমির ব্যবস্থা করতে হবে। তাই দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে যাঁরা ফেলে রেখেছেন, সেই সব জমি ফেরত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এডিডিএ।”
দুর্গাপুরের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগীদের সংগঠন ‘দুর্গাপুর স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ় অ্যাসোসিয়েশন’-এর সাধারণ সম্পাদক রতন আগরওয়াল লাহা বলেন, “অনেকেই নতুন শিল্প গড়তে আসছেন বা সম্প্রসারণ করতে চাইছেন। কেন্দ্র ও রাজ্য— দুই সরকারই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে উদ্যোগী হয়েছে। জমির চাহিদা বাড়ছে। তাই অব্যবহৃত জমি ফিরিয়ে নিয়ে নতুনদের দেওয়ার উদ্যোগ জরুরি। কেউ শিল্প গড়তে এগিয়ে এলে আমাদের সংস্থার তরফে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতাকরা হবে।”