E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

বর্ষায় কঙ্কালসার কৃষক সেতু

দামোদরের উপরের এই সেতুর মাধ্যমে বর্ধমান শহরের সঙ্গে বাঁকুড়া ও হুগলির আরামবাগের সরাসরি যোগাযোগ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:২৫
এমনই হাল কৃষক সেতুর রাস্তার।

এমনই হাল কৃষক সেতুর রাস্তার। নিজস্ব চিত্র।

সেতুর চারদিকে গর্ত। তা বোজাতে মাঝেমধ্যে দেওয়া হয়েছে পেভার ব্লক। কিন্তু তাতেও বেহাল কৃষক সেতুর সেতুর হাল ফেরা দূর, টানা বৃষ্টির জল জমে সেতুর রাস্তা ঢেউ খেলানো হয়ে গিয়ে আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

দামোদরের উপরের এই সেতুর মাধ্যমে বর্ধমান শহরের সঙ্গে বাঁকুড়া ও হুগলির আরামবাগের সরাসরি যোগাযোগ। রায়না, খণ্ডঘোষ ও মাধবডিহির বাসিন্দাদের বর্ধমান শহরে আসতে গেলেও এই সেতু ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু ফি বছর বর্ষায় সেতুর উপরে থাকা পিচ উঠে গিয়ে খানাখন্দ তৈরি হয়। বড় বড় গর্তও দেখা যায়। তাতে বাস, ট্রাক, ডাম্পার, গাড়ির যন্ত্রাংশ ভেঙে ক্ষতির মুখে পড়ে। শুধু ওই সেতু নয় বর্ধমান-আরামবাগ রোডের উপর সংযোগকারী রাস্তা, ইডেন ক্যানালের উপরের সেতুর অবস্থাও বেশ খারাপ। ফলে, ওই রাস্তার উপর বাঁকুড়া মোড় পর্যন্ত দিনের বেশির ভাগ সময় যানজটে পড়াটাই যাত্রীদের ভবিতব্য।

পূর্ত দফতর (সড়ক) সূত্রে জানা যায়, দু’লেনের ওই সেতুর উপর দৈনন্দিন ১২ হাজার গাড়ি যাতায়াত করতে পারে। সেখানে সাম্প্রতিক হিসাবে ৩৯ হাজারের মতো গাড়ি যাতায়াত করে। এর উপর অতিরিক্ত পণ্য, জল পড়তে পড়তে যাওয়া বালির গাড়ি চলে। দফতরের এক আধিকারিকের দাবি, “অতিরিক্ত গাড়ির চাপ থাকার ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। বছরের অন্য সময় সামলে দেওয়া গেলেও বর্ষা বা ভারী বৃষ্টিতে সেতুর উপরে থাকা পিচের পলেস্তারা খসে গিয়ে বিপজ্জনক হয়ে পড়ছে।” কয়েক দিন আগেই কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি ওই সেতুর সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেছিল।

সংগঠনের জেলা সভাপতি গৌরব সমাদ্দার বলেন, “কৃষক সেতুর উপর দিয়ে হুগলি, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, মেদিনীপুর-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ যাতায়াত করেন। প্রতি দিন বিপুল সংখ্যায় ভারী যান, বিশেষ করে বালির ট্রাক চলাচল করে। সেতুতে খানাখন্দ থাকায় সবাইকে ভুগতে হয়।”

বিজেপি নেতা, খণ্ডঘোষের শিক্ষক মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্রও বলেন, “কৃষক সেতু বেহাল থাকায় সবাইকে ভুগতে হচ্ছে। পূর্ত দফতর যাতে চলাচলের উপযোগী রাস্তা তৈরি করে দেয় তার জন্য বলা হয়েছে। বৃষ্টির মরসুম শেষ হওয়ার পরে পুরো রাস্তা সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে।”

পূর্ত দফতরের দাবি, মঙ্গলবার থেকেই আপাতত রাস্তা চলাচলের জন্য উপযোগী করে দেওয়া হবে। বর্ষা মিটে গেলে পুরো রাস্তা সংস্কার হবে। তবে ফের বৃষ্টি পড়লেই তা আবার খারাপ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যতদিন না শিল্প সেতু তৈরি হচ্ছে, এটাই বোধহয় ভবিতব্য বর্ধমানের।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Bardhaman

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy