গত মার্চের মাঝামাঝি জেলা পরিষদ ৭০০ আসনের গুসকরা বিদ্যাসাগর মেমোরিয়াল হলের সংস্কারের জন্য ই-টেন্ডার ডেকেছিল। কাজ শেষের জন্য ছ’মাসের সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়। প্রায় ছ’মাস পেরিয়ে গেলেও কাজের অগ্রগতি হয়নি, অভিযোগ গুসকরাবাসীর একাংশের। বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে প্রেক্ষাগৃহটি। শনিবার ছিল বিদ্যাসাগরের জন্মদিন। প্রেক্ষাগৃহের দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন সংস্কৃতিপ্রেমী শহরবাসী।
স্থানীয় সূত্রের খবর, দরপত্রে সংস্কারের খরচ ধরা হয় ৫,২২,১৪,৬১৬ টাকা। বাম আমলে জেলা পরিষদ প্রেক্ষাগৃহটি তৈরি করে। পরে গুসকরা পুরসভাকে সেটি পরিচালনার দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়। এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, প্রেক্ষাগৃহের সামনের নকশা, পোড়ামাটির কাজ ভেঙে যাচ্ছে। সীমানা পাঁচিলটিও ভেঙে পড়েছে। আগাছা গজিয়ে উঠছে প্রেক্ষাগৃহ চত্বরে। চরছে ছাগল। প্রেক্ষাগৃহের ভিতরের অবস্থাও একই রকম। সিলিং, চেয়ার, মঞ্চের একাংশ ভেঙে গিয়েছে। ঝুঁকি থাকায় সেখানে অনুষ্ঠান করা যায় না।
গুসকরার প্রাক্তন পুরপ্রধান, সিপিএমের বিনোদ চৌধুরী বলেন, ‘‘জেলা পরিষদের সভাধিপতি আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন। তিনি নির্বাচনের আগে প্রেক্ষাগৃহ সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছিলেন। দরপত্র ডাকা হয়েছিল। কিন্তু এখনও কাজ শুরু হল না। প্রেক্ষাগৃহ নষ্ট হচ্ছে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সেখানে করা যাচ্ছে না।’’ গুসকরার পুরপ্রধান কুশল মুখোপাধ্যায় বলেন, “জেলা পরিষদ থেকে দরপত্র ডাকা হয়েছিল। কিন্তু এখনও কাজে অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না। পুরসভা প্রেক্ষাগৃহটি জেলা পরিষদকে হস্তান্তর করেছে। প্রেক্ষাগৃহের সংস্কার হোক।” বিষয়টি কোন অবস্থায় রয়েছে তা খোঁজ নিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের আবাসন প্রতিমন্ত্রী কলিতা মাজি।