E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

বেহাল নিকাশি, বৃষ্টি নামলেই চিন্তা শিল্পতালুকে

কারখানা মালিকদের অনেকে জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘণ্টা দেড়েকের বৃষ্টিতে পরিস্থিতি ভয়াবহ তৈরি হয়েছিল এলাকায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৩৪
জল জমে কারখানা এলাকায়।

জল জমে কারখানা এলাকায়। নিজস্ব চিত্র।

এলাকায় রয়েছে প্রায় পঞ্চাশটি কারখানা। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে হাজার চল্লিশ মানুষ সেগুলির উপরে নির্ভরশীল। অথচ, একটু বেশি বৃষ্টি হলেই ডুবে যায় শিল্পতালুক। কারখানার মালিকদের অনেকের অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে এই পরিস্থিতি চলে আসছে। স্থায়ী সমাধানের আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাম আমলে নব্বইয়ের দশকে দুর্গাপুরের নাসের অ্যাভিনিউ, দ্য গল অ্যাভিনিউ, সঞ্জীব সরণি, জাকির হোসেন অ্যাভিনিউ, আরআইপি প্লট, খয়রাসোলের মতো কয়েকটি জায়গায় প্রায় পঞ্চাশটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ইউনিট গড়ে ওঠে। সরকার পরিকাঠামো তৈরি করে দেয়। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগীদের সংগঠন ‘দুর্গাপুর স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ় অ্যাসোসিয়েশন’-এর একটি সূত্রে জানা যায়, এই সব কারখানায় প্রত্যক্ষ ভাবে হাজার দশেক মানুষ জড়িত। এ ছাড়া, আরও তিরিশ-চল্লিশ হাজার জন পরোক্ষ ভাবে জড়িত। শিল্পতালুকে পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ শিল্পোদ্যোগীদের। বিশেষ করে, নিকাশির সমস্যা। সামান্য বেশি বৃষ্টি হলে শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা জলে ডুবে যায়। কয়েক ঘণ্টা ধরে জল জমে থাকে। ফলে, কারখানায় উৎপাদন ও পরিবহণ বন্ধ হয়ে যায়।

কারখানা মালিকদের অনেকে জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘণ্টা দেড়েকের বৃষ্টিতে পরিস্থিতি ভয়াবহ তৈরি হয়েছিল এলাকায়। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত জল জমে ছিল। দুপুরের পরে ধীরে ধীরে জল নামার পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ২০২৫ সালের ১৭-১৮ অক্টোবরও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, অতীতে নর্দমা নিয়মিত সাফ করা হত। তখন এত সমস্যা হত না। কিন্তু গত দেড় দশকে তা কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে, বর্জ্য জমে নর্দমাগুলি মজে গিয়েছে। ঘণ্টাখানেক বৃষ্টি হলেই এলাকা কার্যত প্লাবিত হয়ে যায় বলে অভিযোগ। কারখানার মালিকেরা জানান, এলাকার নিকাশির জল সগড়ভাঙা ডেয়ারি মোড় এবং বাঁকুড়া মোড় হয়ে গিয়ে দামোদরে মেশে। কিন্তু নিকাশি ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ায় জল বয়ে যায় না। তাই বৃষ্টি হলেই দুশ্চিন্তায় পড়েন তাঁরা।

একটি কারখানা মালিক সুমেশ বাজাজ বলেন, “বৃষ্টি হলেই কপালে ভাঁজ পড়ে আমাদের। পুরসভার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা উচিত।” আর এক কারখানার মালিক পার্থ ঘোষ বলেন, “নর্দমাগুলি মজে যাওয়ায় ও ভেঙে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। পুরো নিকাশি ব্যবস্থার আমূল সংস্কার দরকার।” ‘দুর্গাপুর স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ় অ্যাসোসিয়েশন’-এর সাধারণ সম্পাদক রতন আগরওয়াল বলেন, “আমরা পুরসভাকে ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং বাবদ কর দিয়ে থাকি। অথচ, গত ১৫ বছর ধরে এলাকার নর্দমাগুলি সাফ করা হয়নি। কিছু জায়গায় নর্দমার উপরে দেওয়াল উঠেছে। বৃষ্টি হলেই আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।” তাঁর আশা, রাজ্যের নতুন সরকার হয়তো কিছু সুরাহা করবে।

দুর্গাপুরের দুই বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের আশ্বাস, শিল্পতালুকের সার্বিক নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে সরকার।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Durgapur Water Logging

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy