আসছে আলু চাষের নতুন মরশুম। কিন্তু এখনও হিমঘরে পড়ে আছে প্রচুর পরিমাণ আলু। কিন্তু দাম তলানিতে। অন্য দিকে, বেড়েছে চাষের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম। এই পরিস্থিতিতে দুশ্চিন্তায় পূর্ব বর্ধমানের আলু চাষিরা।
গত মরশুমে রাজ্যে আলুর রেকর্ড উৎপাদন হয়েছে। এখনও হিমঘরগুলিতে বিপুল পরিমাণ আলু মজুত রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই আলু বাজারে না বেরোলে বিক্রি না হয়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। আবার বাজারে জোগান বেশি থাকায় আলুর দামও কমেছে।
বর্ধমানের আলু ব্যবসায়ী পরেশ দাসের দাবি, চলতি বছরে গোটা রাজ্যে প্রায় ১৬ কোটি প্যাকেট আলু উৎপাদন হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলির তুলনায় এই উৎপাদন সর্বোচ্চ বলেই দাবি করছেন তিনি। প্রথম সারির বীজ রোপন বৃদ্ধি পাওয়ায় এই উৎপাদন বৃদ্ধি বলেই মনে করছেন তিনি। বর্ধমান জেলা আলু ব্যবসায়ী সমিতির সহ সভাপতি শেখ মোসেন আলির দাবি, হিমঘরে মজুত আলুর প্রায় ৫০ শতাংশ বেরিয়েছে। এখনও প্রায় ৫০ শতাংশ আলু মজুত। পুজোর সময়ে কয়েক দিন ছুটি থাকায় আগামী ২০-২৫ দিন বাজারে আলু বেরোনোর গতি কমতে পারে আরও কিছুটা। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত মজুত আলু বিক্রি করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে আশঙ্কা।
ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, এখন ভিন রাজ্যেও যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের আলু। তবে সেই তুলনায় চাহিদা বাড়ছে না। তাঁদের দাবি উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড-সহ একাধিক রাজ্যে এ বছর ভাল ফলন হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের আলুর উপরে নির্ভরতা কমেছে। এই প্রসঙ্গে আগের রাজ্য সরকারের নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ। তাঁদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে সীমান্তে আলু পরিবহণে বিধিনিষেধ আরোপ হওয়ায় ভিনরাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের আলুর বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ওড়িশা থেকে বিহার ও ঝাড়খণ্ডে আলু চাষের পরিমাণ বেড়েছে।
আরও পড়ুন:
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত আলুর দাম বাড়ার সম্ভাবনা কম। তবে মরশুমের শেষ দিকে অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে বা নতুন আলু চাষে দেরি হলে সাময়িকভাবে দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। ব্যবসায়ী পরেশ দাস বলেন, ‘‘গত বছর যেখানে আলুর বস্তার দাম দাম দেড় হাজার টাকার নীচে নামেনি, সেখানে চলতি মরশুমে মাঠেই অত্যন্ত কম দামে আলু বিক্রি করতে হয়েছে চাষিদের। ফলে উৎপাদনের সময় থেকেই বড়সড় লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে। যার জেরে চাষি ও ব্যবসায়ী দুই পক্ষই সমস্যায় পড়েছেন।’’ সরকারের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে আলু ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে। তাঁদের দাবি, আলুর দাম বাড়বে এবং ভর্তুকি মিলবে এই আশায় অনেকেই হিমঘরে আলু ধরে রেখেছিলেন। শুরুতে দু’শো টাকা ভর্তুকির কথা বলা হলেও পরে তা পূরণ হয়নি বলেই অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন আলুচাষিরা- এমন দাবি করে চাষি অভিজিৎ ঘোষ, রামচন্দ্র ঘোষেদের দাবি, এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে গড়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ বর্তমানে আলু বিক্রি হচ্ছে অত্যন্ত কম দামে। ফলে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই উঠবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। সামনেই নতুন মরশুমের চাষ। কিন্তু পুরনো আলুর দাম না বাড়লে এবং চাষের খরচ কমানোর কোনও উপায় না হলে নতুন করে আলু চাষে কতটা ঝুঁকি নেওয়া যাবে তা নিয়েও রয়েছে চিন্তা। একই সঙ্গে থাকছে আবহাওয়া নিয়েও দুশ্চিন্তা।