নিট-সহ বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার জবাবের দাবিতে চিত্তরঞ্জনে বামেদের নানা সংগঠনের উদ্যোগে ‘রাত জাগো’ কর্মসূচি আয়োজিত হল। বাম ছাত্র, যুব, কৃষক, খেতমজুর, শ্রমিক ও মহিলা সংগঠনগুলির প্রতিনিধিরা শনিবার রাতে এই কর্মসূচিতে যোগ দেন। দিল্লিতে ছাত্র-যুব আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানানো হয় কর্মসূচিতে।
বাম নেতৃত্ব জানান, ২০ জুলাই দিল্লিতে সংসদ অভিযানের সময়ে আন্দোলনরত ছাত্র-যুবদের উপরে পুলিশের লাঠি চালানোর প্রতিবাদেই এই কর্মসূচির ডাক। আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। শনিবারই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করায়, আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক সাফল্য এসেছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
সিটু নেতা রাজীব গুপ্ত বলেন, ‘‘ছাত্র-যুবদের আন্দোলন শুধু একটি নির্দিষ্ট ঘটনার প্রতিবাদ নয়, বরং শিক্ষা ব্যবস্থায় নীতিগত পরিবর্তন ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর লড়াই। সে কারণেই আন্দোলনকে দীর্ঘমেয়াদি গণআন্দোলনে পরিণত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।’’ সিটুর তরফে আরএস চৌহান বলেন, ‘‘যখন সংসদ ঠিক পথে চলে না, তখন রাজপথ থেকেই সংসদকে পথ দেখাতে হয়।’’ ডিওয়াইএফআই-এর সালানপুর অঞ্চল কমিটির সম্পাদক সৌরভ মুখোপাধ্যায়ের দাবি, ‘‘ছাত্র-যুবদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন প্রমাণ করেছে, লক্ষ্য স্পষ্ট থাকলে নানা অপপ্রচার উপেক্ষা করেও আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় সম্ভব।’’ প্রাক্তন যুব নেতা আবীর ঘোষ দাবি করেন, শিক্ষানীতিতে মৌলিক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং তা কোনও এক দিনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
সভায় সাংস্কৃতিক প্রতিবাদেরও আয়োজন করা হয়। গান, কবিতা ও নৃত্যের মাধ্যমে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান শিল্পী নবনীতা চক্রবর্তী মুখোপাধ্যায়, মৈনাক সেনগুপ্ত, রঞ্জনা নাগ, বিপ্লব নাগ প্রমুখ। আয়োজকদের মতে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত পরীক্ষা পদ্ধতির দাবিতে ভবিষ্যতেও আন্দোলন চলবে।