E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

ভরা নদীতে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই নৌকায়

ভাগীরথীতে জল বেড়েছে। প্রশাসনের নির্দেশকে উপেক্ষা করে ভরা নদীতে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই চলছে যাত্রী পারাপার। শ্রাবণ মাসে শিবমন্দিরে জল ঢালতে আসেন অনেকে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ অগস্ট ২০২৬ ০৮:২০
এ ভাবেই চলছে নদী পারাপার।

এ ভাবেই চলছে নদী পারাপার। নিজস্ব চিত্র ।

লাইফ জ্যাকেট ছাড়া কোনও যাত্রী নৌকায় উঠতে পারবেন না। প্রশাসনের এই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অজয় ও ভাগীরথীতে চলছে ঝুঁকির পারাপার। বছর ছয় আগে কাটোয়া মহকুমা প্রশাসনের তরফে ফেরিঘাটে গিয়ে যাত্রীদের জ্যাকেট পরার কথা বলা হয়েছিল। পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেটও দেওয়া হয়েছিল ফেরিঘাটগুলিতে। নজরদারি কমতেই নিয়ম ভাঙার প্রবণতা দেখা গিয়েছে।

ভাগীরথীতে জল বেড়েছে। প্রশাসনের নির্দেশকে উপেক্ষা করে ভরা নদীতে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই চলছে যাত্রী পারাপার। শ্রাবণ মাসে শিবমন্দিরে জল ঢালতে আসেন অনেকে। নৌকা পেরিয়ে অনেকে কাটোয়ার নানা শিবমন্দিরে জল ঢালতে আসেন। ফলে এই সময়ে যাত্রীদের চাপ বেশি থাকে। যাত্রীদের একাংশের দাবি, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার চলছে। কোন নৌকাতেই লাইফ জ্যাকেট দেখা যায় না। ফেরিঘাটের ইজারাদার ও মাঝিদের আবার দাবি, বারবার বলা সত্বেও যাত্রীরা জ্যাকেট গায়ে তুলতে চান না। প্রচুর জ্যাকেট অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে সেগুলি কার্যত নষ্ট হয়ে গিয়েছে। যাত্রীদের একাংশের পাল্টা দাবি, জ্যাকেটগুলি পরিষ্কার করা হত না। সেগুলি ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে গিয়েছিল। তাই গায়ে তুলতে চাননি কেউ। এখন কোনও কোনও নৌকার এক কোণে জ্যাকেট পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি নজরে এসেছে কাটোয়া পুরসভা ও মহকুমা প্রশাসনের।

মহকুমা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রের খবর, কাটোয়া মহকুমার নানা প্রান্তে অজয় ও ভাগীরথীর ফেরিঘাটগুলিতে সকাল হতেই যাত্রী পারাপার শুরু হয়। কেতুগ্রামের শাঁখাই, উদ্ধারণপুর, কালীবাড়ি, বল্লভপাড়া, মাটিয়ারি ও অগ্রদ্বীপ ফেরিঘাটে যাত্রীদের ভিড় বেশি হয়। নৌকায় ঠাসা ভিড় থাকে। কাটোয়ার শাঁখাই ফেরিঘাটের যাত্রী প্রবীর মিস্ত্রি বলেন, “আমরাও চাই লাইফ জ্যাকেট পরে নৌকায় চাপতে। আগে লাইফ জ্যাকেট থাকলেও প্রায় বছর খানেক ধরে নৌকায় আর সেগুলি দেখা যায় না। ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করা ছাড়া উপায় নেই।” নদিয়ার বল্লভপাড়া থেকে প্রতিদিন কাটোয়া আসেন রবীন্দ্রনাথ সরকার। তিনি বলেন, “আগে নৌকার এক ধারে অপরিষ্কার লাইফ জ্যাকেটগুলি পড়ে থাকতে দেখা যেত। এখন তা-ও দেখা যায় না। প্রশাসনের নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে না। যাত্রীরা লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই নদী পারাপার করছেন। এখন নদীতে জল বেশি। দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেশি।”

কাটোয়ার পুরপ্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক চঞ্চলকুমার মণ্ডল বলেন, “বিষয়টি নজরে এসেছে। অনেক যাত্রী প্রশাসনের নির্দেশ মানতে চান না। লাইফ জ্যাকেট পরে যাতে সকলে নৌকায় চাপেন, তা দেখতে বলা হবে ফেরিঘাটের ইজারাদারদের। নৌকায় প্রয়োজনীয় লাইফ জ্যাকেট থাকে কিনা দেখা হবে।” মহকুমা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, “লাইফ জ্যাকেট ছাড়া নৌকায় ওঠা উচিত নয়। আমরা ফের সচেতনতা প্রচার চালাব।”

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Katwa

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy