জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাটোয়ার নাড়ির টান ছিল। তাঁর দিদি অমলা মুখোপাধ্যায়ের বিয়ে হয়েছিল কাটোয়ার চুড়পুনি গ্রামের বাসিন্দা, শিক্ষাবিদ প্রমথনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। প্রবীণ গ্রামবাসীদের অনেকের দাবি, দিদির শ্বশুরবাড়িতে এসেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। এসেছিলেন তাঁর বাবা আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ও। ১৯৩৬-র ৮ ফেব্রুয়ারি কাটোয়ার কাশীরাম দাস বিদ্যায়তনের ঐতিহ্যবাহী সূর্যনারায়ণ কক্ষের উদ্বোধন করেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। সোমবার রাজ্য জুড়ে তাঁর জন্মদিন পালিত হয়েছে। দিনটি উদ্যাপন করা হয়েছে চুড়পুনি গ্রামেও। বাম ও তৃণমূল জমানায় শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিন পালনে তেমন আড়ম্বর চোখে পড়ত না। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরে বদলেছে ছবি।
শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ তম জন্মজয়ন্তীতে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন কাশীরাম দাস বিদ্যায়তনের শিক্ষক ও চুড়পুনি গ্রামের বাসিন্দারা। জানা গিয়েছে, ১৯১৬-এ প্রমথনাথের সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদের দিদি অমলার বিয়ে হয়। তাঁর স্মৃতিতে গ্রামে রাজুয়া চুড়পুনি অমলা বিদ্যাপীঠ নামে একটি স্কুলও রয়েছে। কাশীরাম দাস বিদ্যায়তনের সূর্যনারায়ণ কক্ষের উদ্বোধনে এসে বেশ কিছুটা সময় শ্যামাপ্রসাদ কাটিয়েছিলেন স্কুলে। চুড়পুনি গ্রামের বাসিন্দা শরৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বাবা-ঠাকুরদার মুখে শুনেছি, শ্যামাপ্রসাদের দিদির বিয়ে হয়েছিল আমাদের গ্রামে। তিনি দিদির বাড়িতে এসেছিলেন।’’ স্কুলের প্রধান শিক্ষক কমলকান্তি দাস বলেন, “শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় আমাদের স্কুলের ঐতিহ্যবাহী হলঘরটি ১৯৩৬-র ৮ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধন করেছিলেন। সেই সময়ে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। তাঁর পায়ের ধুলো পড়েছে আমাদের স্কুলে। এমন এক জন দেশপ্রেমিকের জন্মজয়ন্তী পালন করা হয়েছে স্কুলে। তাঁর রাষ্ট্রদর্শণ আগামী প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক। এটাই কামনা করি।”
এ দিন সকাল থেকেই জেলার নানা প্রান্তে কর্মসূচি হয় প্রশাসন ও নানা সংগঠনের উদ্যোগে। বেলা ১১টা নাগাদ কাটোয়া পুরসভার সামনে শ্যামাপ্রসাদের আবক্ষ মূর্তির উন্মোচন করেন কাটোয়ার বিধায়ক কৃষ্ণ ঘোষ। ছিলেন মহকুমাশাসক (কাটোয়া), কাটোয়া পুরসভার প্রশাসক রীনা ঘোষ, পুরসভার কার্যনির্বাহী আধিকারিক চঞ্চলকুমার মণ্ডল। পরে কাটোয়ার মণ্ডলহাট গ্রামে শ্যামাপ্রসাদের আবক্ষ মূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন বিধায়ক। দুপুরে কাটোয়া মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে সংহতি মঞ্চে বিশেষ অনুষ্ঠান হয়। একই ভাবে, কাটোয়া ও দাঁইহাট শহরে বিজেপি ও নানা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে রক্তদান শিবির-সহ নানা অনুষ্ঠান হয়। কাটোয়ার বিধায়ক বলেন, “মহান দেশপ্রেমিক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আবক্ষ মূতি স্থাপন করা হয়েছে। পুরসভার সামনের রাস্তাটির নাম দেওয়া হয়েছে শ্যামাপ্রসাদ সরণি।’’