জেলা সভাপতি বদল হতে পারে মনে করে অনেক বিজেপি নেতাই দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তীর সঙ্গে দেখা করে তাঁর কাছে জীবনপঞ্জি জমা দিতে শুরু করেছেন বলে দলীয় সূত্রের খবর। এতে ‘বিরক্ত’ অমিতাভ মঙ্গলবার দলের এক বৈঠকে ওই সব নেতাদের সভাপতি বদল নিয়ে মাথা না ঘামানোর পরামর্শ দেন। তাঁদের উদ্দেশে অমিতাভর বার্তা, জেলা সভাপতি বদল ঘিরে চর্চা আদতে সংগঠনকে দুর্বল করে।
মঙ্গলবার রাতে কালনা শহরের মহিষমর্দিনীতলায় একটি প্রেক্ষাগৃহে বৈঠকে ছিলেন অমিতাভ। সেখানে এখন থেকেই ২০২৯ লোকসভা নির্বাচনে দলের ভোটব্যাঙ্ক বাড়ানোর কাজ শুরুর নির্দেশ দেন তিনি। ভোটব্যাঙ্ক বাড়ানোর কৌশলও তিনি বাতলে দিয়েছেন। বৈঠকে ছিলেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতিময় সিং মাহাতো। বৈঠকে ডাকা হয় বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্ব, জেলা থেকে রাজ্য পর্যায়ের বিভিন্ন সংগঠনে থাকা নেতা, মণ্ডল সভাপতি এবং সাংগঠনিক জেলার সাত বিধায়ককে। ঘণ্টা খানেকর বেশি সময় ধরে চলে বৈঠক।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, অমিতাভের স্পষ্ট নির্দেশ, ৫০ শতাংশ ভোটারকে সংগঠনের ছত্রছায়ায় আনতে হবে। কেন্দ্র এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পের উপভোক্তাদের কাছে যেতে হবে। এ কাজ ঠিক মতো করা গেলে ভোট বেড়ে হবে ৬০ শতাংশের কাছাকাছি। বিজেপির একাংশ মনে করছেন, আগামী লোকসভা নির্বাচনে দলকে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। দলীয় নেতাদের কাছে অমিতাভর বার্তা, নিয়মিত জেলা এবং বিধানসভা কোর কমিটির বৈঠক করতে হবে। সক্রিয় হতে হবে বিভিন্ন মোর্চার সঙ্গে যুক্ত নেতা-কর্মীদের।
বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ বলছেন, দল রাজ্যে ক্ষমতায় এলেও বহু বুথে সংগঠন এখনও দুর্বল। তবে লোকবল বেড়েছে। বৈঠকে দুর্বল বুথগুলিকে শক্তিশালী করারর কথা বলা হয়েছে। যে সব বুথ কমিটিতে কম-বেশি ১২ জন রয়েছেন, সেখানে অন্তত আরও ১৩ জনকে আনতে বলা হয়েছে। অমিতাভর বার্তা, দলীয় নেতাদের ‘আচরণেও’ পরিবর্তন আনতে হবে। প্রশাসনের করা উচিত এমন কাজ দলের লোকজন করলে মানুষ ভাল ভাবে নেবেন না। বিধানসভা কোর কমিটির মাথায় বিধায়কেরা থাকলে তাঁদের জেলা এবং মণ্ডল স্তরের পদাধিকারীদের পরামর্শ শুনতে হবে। একক সিদ্ধান্তে কাজ করলে দল ‘দায়’ নেবে না।
জেলা সভাপতি বদল হতে পারে বলে চর্চা শুরু হয়েছে দলের অন্দরে। সূত্রের খবর, এ নিয়ে বৈঠকে অমিতাভ জানান, কেউ কেউ তাঁর কাছে জেলার সভাপতি করার আবদার জানিয়ে জীবনপঞ্জি জমা দিতে চলে যাচ্ছেন। অনেকে নানা ‘রব’ তুলছেন। সূত্রের খবর, বৈঠকে এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আপনাদের বিবেচনার বিষয় নয়। জেলা সভাপতি পদে নতুন কাউকে আনা হলে, তা রাজ্য নেতৃত্বসিদ্ধান্ত নেন।’
রাজ্য সরকারের ১০০ দিনের কাজ সম্পর্কে মণ্ডল সভাপতিদের অভিজ্ঞতা ও মতামত জানতে চান অমিতাভ। বেশির ভাগ মণ্ডল সভাপতিই সরকারের কাজে সন্তোষ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ অবশ্য অমিতাভকে জানান, অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ অনেকে পাননি। তাঁরা প্রকল্পের সুবিধা পাবেন কিনা জানতে চাইলে নেতৃত্ব জানান, ওই মহিলাদের নথিপত্র নিয়ে বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনাকরতে হবে।
বৈঠকে হাজির এক নেতার কথায়, ‘‘এখন খাতায় কলমে ভোটারদের প্রায় ২৫ শতাংশ দলের সঙ্গে কোনও না কোনও ভাবে যুক্ত। তা বাড়িয়ে ৫০ শতাংশে নিয়ে যেতে বলেছেন রাজ্য সংগঠন সম্পাদক।’’ বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি স্মৃতিকণা বসু বলেন, ‘‘বৈঠকে সংগঠন নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন রাজ্য সম্পাদক (সংগঠন)। ওঁর পরামর্শ মেনেকাজ হবে।’’