E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

শিক্ষকের অভাব, বিনা পারিশ্রমিকে পড়াচ্ছেন তিন জন যুবক-যুবতী

আউশগ্রামের কোটা পঞ্চায়েতের সোঁয়াই ওঙ্কারনাথ মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রের এক সময় ছ’জন শিক্ষক ছিলেন। ১১ বছরে ইংরেজি, বাংলা, ইতিহাস-সহ বিভিন্ন বিষয়ে চার জন শিক্ষক অবসর নিলেও নতুন নিয়োগ হয়নি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৫৭
বিনা বেতনে পড়াচ্ছেন তিন যুবক-যুবতী।

বিনা বেতনে পড়াচ্ছেন তিন যুবক-যুবতী। নিজস্ব চিত্র।

প্রায় দেড়শো পড়ুয়ার জন্য শিক্ষক রয়েছেন মাত্র দু’জন। শিক্ষকের অভাব মেটাতে এগিয়ে এসেছেন গ্রামের তিন যুবক-যুবতী। চার বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে পড়ানোর পাশাপাশি পড়ুয়াদের নাচ, গান, আঁকা, খেলাধুলা ও বাগান পরিচর্যাও শেখাচ্ছেন তাঁরা।

আউশগ্রামের কোটা পঞ্চায়েতের সোঁয়াই ওঙ্কারনাথ মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রের এক সময় ছ’জন শিক্ষক ছিলেন। ১১ বছরে ইংরেজি, বাংলা, ইতিহাস-সহ বিভিন্ন বিষয়ে চার জন শিক্ষক অবসর নিলেও নতুন নিয়োগ হয়নি। ফলে শিক্ষকের অভাবে পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে গ্রামের বাসিন্দা ধর্মরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়, অপূর্ব পাল ও সঙ্গীতা কর ভট্টাচার্য পড়ানোর দায়িত্ব নেন। তাঁদের কেউ স্নাতক, কেউ স্নাতকোত্তর। সকলেই বিএড ডিগ্রিধারী। ধর্মরাজ ইংরেজির পাশাপাশি আঁকা ও খেলাধুলা, সঙ্গীতা বাংলার পাশাপাশি নাচ ও গান এবং অপূর্ব ইতিহাস পড়ানোর সঙ্গে বাগান পরিচর্যা শেখান।

ধর্মরাজ বলেন, “আমরা চার বছর ধরে বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত। মূলত গ্রামের প্রান্তিক শ্রেণির ছেলেমেয়েরাই এখানে পড়াশোনা করে। স্কুলটি যাতে উঠে না যায় এবং পড়ুয়াদের শিক্ষার মানের ক্ষতি না হয়, সে দিকে লক্ষ্য রেখে আমরা তিন জন নিজেদের কাঁধে পড়ানোর দায়িত্ব তুলে নিয়েছি।” অভিভাবক প্রদীপ লোহার, লক্ষ্মীনারায়ণ কর ও চন্দনা বাগদিরা জানান, কাছাকাছি কোটা বা অন্য উচ্চ বিদ্যালয় কয়েক কিলোমিটার দূরে। ফলে সেখানে যাতায়াত সমস্যার। শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রশাসন ও রাজ্যের মন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। তাঁদের কথায়, “তিন জন চার বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে পড়াচ্ছেন। ওঁরা না থাকলে ছেলেমেয়েদের অনেক ক্ষতি হত।” বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপককুমার পাল বলেন, “চারটি শ্রেণিতে ৩০ থেকে ৫০ জন করে পড়ুয়া রয়েছে। দু’জন স্থায়ী শিক্ষকের পক্ষে এক সঙ্গে সব শ্রেণিতে পড়ানো সম্ভব নয়। এই তিন জন চার বছর ধরে বিনা বেতনে পড়ানোর দায়িত্ব নেওয়ায় পড়ুয়াদের উপকার হয়েছে।” তিন জনের কাজকে কুর্নিশ জানিয়েছেন এলাকার বিধায়ক, রাজ্যের আবাসন প্রতিমন্ত্রী কলিতা মাজি। ওই স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Teacher

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy