জাতীয় ক্রীড়া দিবসে বিভিন্ন ক্ষেত্রের কৃতী খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা জানানো হয়েছিল নবান্নে। সেই তালিকায় ঠাঁই পেলেন পশ্চিম বর্ধমানের দুই মহিলা ফুটবলার রুপালি বাউরি ও তুলসী লোহার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত থেকে স্মারক ও এক লক্ষ টাকার চেক পেলেন তাঁরা।
হিন্দুস্তান কেব্লসের মালবহালের ‘মাতৃভূমি সকার ক্লাব’-এর এই দুই খেলোয়াড় বাংলা দলের হয়েও খেলেছেন। ২০২৫ সালে দিল্লিতে জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের মহিলা ফুটবল দল। সেই দলের সদস্য ছিলেন রুপালি ও তুলসী।
রুপালি বাউরি জানান, তিনি ১৪ বার জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় বাংলার হয়ে খেলেছেন। ইস্টবেঙ্গল মহিলা ফুটবল দলের হয়ে ‘খেলো ইন্ডিয়া’র মতো প্রতিযোগিতাতেও খেলেছেন তিনি। তিন বছর কর্ণাটক রাজ্য দলের হয়েও খেলেছেন। এলাকার ফুটবলপ্রেমীদের দাবি, স্থানীয় মাঠেও রক্ষণভাগে সমান উজ্জ্বল রুপালি। মেয়ের সাফল্যে খুশি প্রকাশ করেন রুপালির বাবা বাবা তথা মাতৃভূমি সকার ক্লাবের প্রশিক্ষক সঞ্জীব বাউরিও। একাধিক মঞ্চে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন ‘রাইট উইং’ তুলসী লোহারও।
প্রশিক্ষক সঞ্জীব বাউরি বলেন, “মেয়েরাও যে ফুটবল খেলে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে সেই বার্তা সকলকে দিতে পেরেছে তুলসী ও রুপালি। ওদের এই সাফল্য সালানপুর ব্লক ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার জন্য গর্বের।”
এলাকার ক্রীড়াপ্রেমীরা জানান, বহু বছর ধরে সঞ্জীব বাউরি একার চেষ্টায় ‘হিন্দুস্তান কেব্লস’ জলাশয়ের ধারে মালবহালের মাঠে আবাসিক ফুটবল প্রশিক্ষণ শিবির চালাচ্ছেন। স্থানীয় তো বটেই, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উৎসুক মেয়েরা সেখানে ছুটে আসেন। দুই ফুটবলারের এই সাফল্য সঞ্জীব বাউরির লড়াইয়েরও স্বীকৃতি বলে মনে করছেন স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা।