পাড়ার ছেলেরাই কি এমন করল— বিস্ময় কাটছে না গ্রামের। মাস দেড়েক ধরে স্বামী, দুই সন্তানকে নিয়ে বাপেরবাড়িতে রয়েছেন যুবতী। বুধবার বাড়ি থেকে ১০০ মিটার দূরে তাঁর দেহ মেলে। শরীরে ক্ষত, আঘাত ছিল। পরিবারের অভিযোগ, গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে ওই জনজাতি যুবতীকে। পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। প্রতিবেশীদের প্রশ্ন, নিয়মিত যোগাযোগ ছিল যাদের সঙ্গে, তেমন দু’জনই একেবারে মেরে ফেলল মেয়েটাকে!
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের এক জনকে এলাকা থেকে, আর এক জন পাশের জেলা থেকে ধরা হয়েছে। এ দিন তাদের আদালতে তোলা হলে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়। ধৃতদের কঠোর শাস্তির দাবিতে জনজাতিদের একটি সংগঠন, ‘ভারত জাকাত মাঝি পরগণা’ থানায় বিক্ষোভ দেখায়। এসএফআই, ডিওয়াইএফআই ও এআইডব্লিউএ-র মতো সংগঠনগুলিও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার চেয়ে থানায় স্মারকলিপি দেয়। নারীদের নিরাপত্তার দাবিতে প্রতিবাদসভা করে কংগ্রেসের মহিলা শাখা।
সিপিএম নেতা সৈয়দ হোসেন বলেন, “তৃণমূল আমলে মহিলাদের নিরাপত্তা ছিল না। নতুন সরকারের আমলেও রাশ টানা যায়নি, বরং বেড়েই চলেছে। আমরা মহিলাদের নিরাপত্তা ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
মৃতার ভাইয়ের দাবি, ‘‘মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কাজের খোঁজে দিদি বেরিয়েছিল। আর ফেরেনি।’’ বুধবার সকালে দেহ মেলার খবর পান তাঁরা। দেখা যায়, মুখ গুঁজে খেত জমিতে পড়ে রয়েছেন মৃতা। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ গণধর্ষণ করে খুনের মামলা রুজু করে। মৃতার স্বামী বলেন, ‘‘খারাপ কাজ করার পরে আমার স্ত্রীকে গলা টিপে, ইট দিয়ে থেঁতলে খুন করা হয়েছে। খুব কষ্ট করে মারা হয়েছে। পাড়ার লোকেরাই কেন এ রকম করল, বুঝতেই পারছি না।”
এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, ধৃতদের মধ্যে বয়স্ক জন বেশির ভাগ সময়েই মত্ত অবস্থায় থাকত। এলাকায় ভাল লোক বলে পরিচিতও ছিল না। কিন্তু অন্য জন, ২৫ বছরের ধৃত যুবককে মৃতা ভাই বলে ডাকতেন। তাঁদের প্রশ্ন, ‘‘কাকে মানুষ বিশ্বাস করবে? কেন খুন করা হল মেয়েটাকে? মেয়েদের নিরাপত্তাই বা কোথায়?”
পুলিশের দাবি, ধৃতদের সঙ্গে মৃতাকেও এক টোটো চালক একসঙ্গে সেচখালের ধারে নামায় বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তদের কথায় অসঙ্গতি রয়েছে। মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে ঘটনা আরও স্পষ্ট হবে।