দুর্গাপুজোয় এ বার কোথাও পরিবেশবান্ধব উপকরণে ফুটে উঠেছে সৃজনশীলতার ছাপ, কোথাও মাটির শিল্পকর্মে ফিরে দেখা গ্রামবাংলার জীবন। আবার কোথাও নারীশক্তির আত্মমর্যাদা ও লড়াইয়ের বার্তা। দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের মণ্ডপে মণ্ডপে শুধু উৎসবের আবহ নয়, ধরা পড়ছে ইতিহাস, পুরাণ, সংস্কৃতি ও সামাজিক ভাবনার নানা অনুষঙ্গ।
ফুলঝোড় সর্বজনীনের পুজো এ বার ৩৫তম বর্ষ। থিম- সোনার বাংলা। মণ্ডপে ঢুকলেই নজর কাড়ে একটা বিশালাকৃতি ধানের মরাই। সঙ্গে কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী। পরিবেশবান্ধব মণ্ডপ গড়তে ব্যবহার করা হয়েছে ধানের শিষ, খড়, তুষ, মাটির হাঁড়ি, গাছের ডাল, ছাল প্রভৃতি উপকরণ। মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাবেকি প্রতিমা গড়ে তোলা হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে মানানসই চন্দননগরের আলোকসজ্জা। উদ্যোক্তাদের দাবি, বাজেট প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা।
কফির কাপ, আইসক্রিমের কাঠি, শালপাতা প্রভৃতি উপকরণ দিয়ে গড়া হয়েছে দুর্গাপুরের পলাশডিহা তরুণ সঙ্ঘের প্রতিমা। এবার পুজোর সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষ। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, পরিবেশবান্ধব ভাবনা দর্শনার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া উদ্দেশ্য। উদ্যোক্তাদের তরফে সন্তোষ সামন্ত জানান, সাধারণত ব্যবহারের পরে যে সব সামগ্রী ফেলে দেওয়া হয়, সেগুলিকেই কাজে লাগিয়েই সৃজনশীল সৃষ্টি গড়ে তোলা সম্ভব, সেই বার্তাই দিতে চেয়েছেন তাঁরা। এই পুজোর আরও বিশেষত্ব হল, বাইরের কোনও শিল্পী নয়। প্রতিমা গড়েছেন ক্লাবের তরুণ সদস্যেরা।
শঙ্করপুর সর্বজনীনের থিম-দ্বারকা নগরী। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে শ্রীকৃষ্ণের জলের নীচে তলিয়ে যাওয়া স্বর্ণনগরী ‘দ্বারকা’-র আদলে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। মণ্ডপসজ্জায় দ্বারকা নগরীর পাশাপাশি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সমুদ্রের নীচের আবহ। এ বার পুজো ২৭তম বর্ষ। বুদ্ধবিহার সর্বজনীন পুজো কমিটির ৩৭তম বর্ষে এ বারের থিম, ‘নহি দেবী, নহি সামান্যা নারী’। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, থিমের মাধ্যমে নারীশক্তিকে সম্মান জানানো হয়েছে। বেনাচিতির ৫৪ ফুট এলাকার ক্ষুদিরাম ময়দানে গত তিন বছর ধরে দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের নেতৃত্বে দুর্গাপুজো আনছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। চতুর্থ বর্ষে বিশাল মণ্ডপ গড়ে তোলা হয়েছে অযোধ্যার রাম মন্দিরের আদলে। সঙ্গে রয়েছে আকর্ষণীয় আলোকসজ্জা। চতুর্থীর সন্ধ্যা থেকেই কার্যত তিল ধারনের জায়গা নেই মণ্ডপে। সিটি সেন্টারের সিমেন্ট পার্ক দুর্গাপুজো কমিটির পুজো ৫১তম বর্ষে পড়ল। এ বছরের থিম, ‘মাটির টানে’। মণ্ডপের ভিতরে ও বাইরে মূলত গ্রাম-বাংলার জীবনযাত্রা মাটির শিল্পকর্মেরমাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।গ্রামীণ পরিবেশের আবহ তৈরিকরতে বিশেষ গান ব্যবহারকরা হয়েছে।