E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

প্রার্থী বাছতে মণ্ডলে যাচ্ছেন রাজ্য নেতারা

সূত্রের খবর, প্রার্থী নির্বাচনের জন্য অন্তত ৫০ জন করে নিয়ে মণ্ডল স্তরে কমিটি গড়া হয়েছে। সেখানে মণ্ডলের বর্তমান পদাধিকারীদের পাশাপাশি ঠিক আগের কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরাও রয়েছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ০৭:৩৮

—প্রতীকী চিত্র।

সব ঠিক থাকলে নভেম্বরেই ঘোষণা হতে পারে বিজেপির প্রার্থী তালিকা। সূত্রের খবর, সেই তালিকাকে ‘ত্রুটি-মুক্ত’ রাখতে এ বার বিশেষ পদক্ষেপ করছে রাজ্য বিজেপি। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে রাজ্য নেতারা মণ্ডল স্তর পর্যন্ত পৌঁছচ্ছেন। সূত্রের দাবি, বিতর্ক এড়াতে জেলা নেতাদের পাশাপাশি রাজ্য নেতাদেরও এই কাজে জুড়ে দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল।

প্রার্থী হতে ইচ্ছুকদের জন্য ড্রপ বাক্স রেখেছিল বিজেপি। কিন্তু সূত্রের দাবি, সেখানে জমা পড়া আবেদনপত্র প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আদৌ কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে সংশয় আছে। নিচুতলা থেকে উঠে আসা দলীয় কর্মীদের নামেই শেষমেশ সিলমোহর দেবেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ইতিমধ্যেই বলেছেন, “যা যা দেখার, আমরা দেখে নিয়েছি। সংবাদমাধ্যমে খবর দিতে ‘ড্রপ বক্স’ তৈরি করতে হয়! যা হওয়ার, তা হয়েই আছে।”

সূত্রের খবর, প্রার্থী নির্বাচনের জন্য অন্তত ৫০ জন করে নিয়ে মণ্ডল স্তরে কমিটি গড়া হয়েছে। সেখানে মণ্ডলের বর্তমান পদাধিকারীদের পাশাপাশি ঠিক আগের কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরাও রয়েছেন। এই কমিটি সুপারিশ করে প্রতিটি মণ্ডল থেকে পাঁচ জনের নাম পাঠাবে। একই পদ্ধতিতে প্রাক্তন জেলা সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে গঠিত কমিটি সেই পাঁচটি নামের মধ্যে থেকে তিনটি নাম বাছবে এবং তার পরে সেটা যাবে রাজ্যে। ওই নামগুলির থেকে একটি নাম বেছে নেওয়া হবে রাজ্য স্তরে। অবশ্য এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকার বিধায়ক অথবা বিধায়ক পদ-প্রার্থীর মতামত আলাদা করে নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে বিজেপির দলীয় সমীকরণ এবং গোষ্ঠী ‘দ্বন্দ্বে’র ইঙ্গিত রয়েইছে। এর সঙ্গে, হাওড়া পুর-এলাকায় যোগ হয়েছে বাঙালি-অবাঙালি সমীকরণ। প্রসঙ্গত, বাম আমলেও এই সমীকরণ অন্য আঙ্গিকে দেখা যেত বলে রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের দাবি। বালির বিজেপি বিধায়ক সঞ্জয় সিংহ হাওড়া পুরভোটে দলের তরফে সহকারীর দায়িত্বে রয়েছেন। এ ছাড়া রাজ্যের মন্ত্রী উমেশ রাইও হাওড়া পুরসভা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় দায়িত্ব নিয়ে সামলাচ্ছেন। বিজেপির একাধিক নেতা ঘরোয়া আলোচনায় অভিযোগ করছেন, অবাঙালি নেতাদের ‘দাপটে’ সংগঠনে কার্যত এক ঘরে হতে হচ্ছে বাঙালি নেতাদের। এই পরিস্থিতিতে ওই বাঙালি নেতাদের একাংশ আবার রাজ্য নেতাদের কাছে জেলা সংগঠনের মধ্যে থাকা অবাঙালি নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট, তৃণমূল কংগ্রেসের ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’দের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলার অভিযোগ করছেন বলে খবর। যদিও অভিযোগ উড়িয়ে হিন্দিভাষী এক নেতার দাবি, “বাঙালি-অবাঙালি বিভাজন বিজেপিতে নেই। যোগ্য লোককে উপযুক্ত দায়িত্ব দেওয়া হবে। যাঁদের যোগ্যতা, সাংগঠনিক শক্তি নেই, তাঁরা অহেতুক বিতর্ক তৈরি করছেন।” বাঙালি নেতাদের একাংশের পাল্টা বক্তব্য, “রাজ্য সভাপতি বলেছেন ভাল মেয়র পাবেন, যাঁর ভাবমূর্তি স্বচ্ছ। আমরাও তা-ই আশা করছি।”

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
BJP Vote

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy