Advertisement
E-Paper

মন্ত্রিসভার সিলমোহর: কালীপুজোর আগে ৫ নভেম্বর প্রকাশিত হবে শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ শিল্পনীতি

চলতি বছরের মে মাসে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণ করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। দায়িত্বভার গ্রহণের পর বিগত পাঁচ মাসে রাজ্যের শিল্প পুনরুজ্জীবন ও সার্বিক অর্থনৈতিক সংস্কারে একাধিক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ করেছে বর্তমান প্রশাসন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৫:৫৯
Cabinet Nod: Suvendu Adhikari Govt’s First Full-Fledged Industrial Policy To Be Unveiled On Nov 5

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।

রাজ্যে সার্বিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ নতুন শিল্পনীতি কার্যকর করার চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঘোষণা করে দিল রাজ্য সরকার। বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে সবুজ সঙ্কেত পেল রাজ্যের খসড়া শিল্পনীতি। আগামী ৫ নভেম্বর নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত এক প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতেই এই নীতি প্রকাশ পাবে।

চলতি বছরের ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণ করেছিলেন শুভেন্দু। দায়িত্বভার গ্রহণের পর বিগত পাঁচ মাসে রাজ্যের শিল্প পুনরুজ্জীবন ও সার্বিক অর্থনৈতিক সংস্কারে একাধিক পদক্ষেপ করেছে বর্তমান সরকার। হুগলি কিংবা বাঁকুড়ার মতো পিছিয়ে পড়া জেলাগুলিতেও ভারী ও মাঝারি শিল্প পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজে ইতিমধ্যে সাফল্য মিলতে শুরু করেছে বলেছে সরকারের দাবি। তবে শিল্পমহল ও বণিকসভাগুলির দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, প্রথমে বামফ্রন্ট সরকার এবং পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের নিজস্ব কোনও নির্দিষ্ট ও সুসংহত শিল্পনীতি ছিল না। সেই অভাব পূরণ করতেই গত জুন মাস থেকে নীতি নির্ধারণের কাজ শুরু করা হয়। কালীপুজো ও দীপাবলির প্রাক্কালে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে রাজ্যের নয়া শিল্পনীতি।

দুর্গাপুজোর আগেই পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায় চ্যাটার্জি গোষ্ঠীর তরফে প্রায় ছ’হাজার কোটি টাকার এক বিরাট বিনিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি, জাপানের মিৎসুবিশির মতো বহুজাতিক শিল্প সংস্থাও এ রাজ্যে বড় অঙ্কের পুঁজি বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নতুন সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, রাজ্যে লগ্নির অবাধ পরিবেশ সৃষ্টি, লাল ফিতের ফাঁস দূরীকরণ এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য লক্ষ লক্ষ স্থায়ী কর্মসংস্থানের বাতাবরণ গড়ে তোলাই তাদের অগ্রাধিকার। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই রাজ্য সরকারের বিশেষ মন্ত্রিগোষ্ঠী একটি আধুনিক ও শিল্পবান্ধব খসড়া নীতি তৈরি করে। মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে প্রস্তুত সেই ঐতিহাসিক খসড়ায় বুধবার মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ সম্মতি মিলেছে। আগামী ৫ নভেম্বর নবান্ন থেকে এই নীতি আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষিত হবে।

শিল্পের পাশাপাশি রাজ্যের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নেও একগুচ্ছ যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে মন্ত্রিসভা। আগামী ৫ নভেম্বর হুগলি জেলার পুরশুড়া থেকে রাজ্যের প্রায় ৪৮ লক্ষ নথিভুক্ত কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এককালীন ২,০০০ টাকা করে সরাসরি আর্থিক অনুদান হস্তান্তর করা হবে। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি প্রকল্পের রূপরেখা অনুযায়ী রাজ্যের নিজস্ব ভাগের বরাদ্দ হিসেবে এই অর্থ কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে রাজ্যের পূর্বতন ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক নাম বদলে ‘মুখ্যমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি’ করার প্রস্তাবে সিলমোহর দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। জানা গিয়েছে, পুরশুড়ার কেন্দ্রীয় সমাবেশ মঞ্চে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রী উপস্থিত থেকে এই অর্থ প্রদান প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন। রাজ্যের অন্য জেলার প্রতিনিধি ও সুবিধাভোগী কৃষকেরা সরাসরি ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই রাজ্য পর্যায়ের মেগা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় গতি আনার লক্ষ্যে এ দিনের বৈঠকে ব্যয় বরাদ্দের পর্যালোচনাও করা হয়েছে। যে সমস্ত দফতর তাদের বাৎসরিক বাজেট বরাদ্দের ৩৫ শতাংশ অর্থ ইতিমধ্যে খরচ করে ফেলেছে, উন্নয়ন স্তব্ধ না-রাখতে তাদের পরবর্তী কিস্তির অর্থ অবিলম্বে ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অর্থ দফতরকে।

অন্য দিকে, উৎসবের দিনগুলিতে জন নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা অটুট রাখতে কালীপুজো ও দীপাবলিকে কেন্দ্র করে রাজ্য জুড়ে প্রশাসনিক তৎপরতা বৃদ্ধির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলার পরিস্থিতি নজরে রাখতে মন্ত্রীদের এক একটি নির্দিষ্ট জেলার দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।

Industrial Policy Cabinet Meet Suvendu Adhikari

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy