ভবানীপুর বিধানসভার ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলায় কলকাতা হাই কোর্টে লিখিত জবাব দিতে চান জয়ী বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ভবানীপুরের ভোটে কারচুপির যে অভিযোগ তুলেছেন তরাই প্রেক্ষিতে লিখিত বক্তব্য জানাতে চেয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারীকে লিখিত বক্তব্য জানাতে সময় দিয়েছেন বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত।
এর আগে গত অগস্টের শুনানিতে শুভেন্দুর আইনজীবী জয়দীপ কর জবাব দেওয়ার জন্য সময় চেয়েছিলেন আদালতের কাছে। বিচারপতি কান্ত তিন সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করেছিলেন। প্রসঙ্গত, ভবানীপুর বিধানসভার নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে ইলেকশন পিটিশন করেছেন মমতার আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, ওই নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। ভোট প্রক্রিয়া-সহ গণনায় কারচুপি করে জিতেছেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু। এর আগে এই মামলার শুনানিতে ইভিএম, সিসিটিভি ফুটেজ-সহ নির্বাচন সংক্রান্ত নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি কান্ত। মঙ্গলবারের শুনানিতে কল্যাণ ছিলেন না। মমতার আইনজীবী হিসেবে আদালতে হাজির ছিলেন কল্যাণ-পুত্র শীর্ষণ্য।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে শুভেন্দুর কাছে ১৫,১০৫ ভোটে হেরে যান মমতা। মমতার আইনজীবী কল্যাণের দাবি, ভবানীপুরে ভোটে কারচুপি করা হয়েছে। যা কারচুপি হয়েছে, তা মূলত গণনার দিন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি এ-ও দাবি করেন যে, কাউন্টিং এজেন্টকে মারধর করে বার করে দেওয়া হয় গণনাকেন্দ্র থেকে। এমনকি, মামলাকারী তথা ভবানীপুরের তৃণমূলপ্রার্থী মমতাকেও ঢুকতে দেওয়া হয়নি গণনাকেন্দ্রে। কারচুপির অভিযোগ করতে গিয়ে ২০২১ সালে নন্দীগ্রামের ভোটের প্রসঙ্গও তোলেন কল্যাণ। তাঁর দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে যিনি রিটার্নিং অফিসার ছিলেন, তাঁকেই এ বার ভবানীপুরে রিটার্নিং অফিসার করা হয়েছিল। গত বার নন্দীগ্রামেও কারচুপি হয়েছিল। তা নিয়ে নির্বাচনী পিটিশন দাখিল হয়েছিল। শুনানিতে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) তথা বর্তমান মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবালের কথাও তুলেছিলেন কল্যাণ। তিনি বলেছিলেন, ‘‘নির্বাচন শেষ হওয়ার পর পরই সিইও-কে মুখ্যসচিব করা হয়। এমনকি, একটা সময় তিনি একসঙ্গে দু’টি দায়িত্বও সামলেছেন।’’