Advertisement
E-Paper

‘নির্বাচন কমিশন কোনও পক্ষের দ্বারা চালিত হলে যা-হওয়ার তাই হয়েছে’! আইএসএফের প্রতীক মামলায় রায় স্থগিত হাই কোর্টের

সোমবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে। কোন আইনি ধারা মেনে আইএসএফ-এর ব্যবহার করা খাম প্রতীক ঋতব্রতদের তৃণমূলকে দেওয়া হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:৫৬
(বাঁ দিকে) ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নওশাদ সিদ্দিকী (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নওশাদ সিদ্দিকী (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম

আইএসএফ-এর প্রতীক নিয়ে মামলার শুনানি শেষ হল কলকাতা হাই কোর্টে। তবে রায়দান স্থগিত রেখেছে আদালত। সোমবারের শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে। কোন আইনি ধারা মেনে আইএসএফ-এর ব্যবহার করা খাম প্রতীক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’(ডিটিসি)-কে দেওয়া হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি।

নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে বিচারপতি রাও বলেন, “হাই কোর্ট কর্তৃপক্ষের কাজে উদ্বিগ্ন। আদালত চায়, কর্তৃপক্ষ এমন ভাবে কাজ করুন, যাতে পরে তাঁদের প্রশ্নের মুখে পড়তে না-হয়। আর আদালতকেও পরে হস্তক্ষেপ করতে না হয়।” একই সঙ্গে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “আগের প্রতীক পাওয়া আইএসএফ-এর অধিকার হয়তো নয়, কিন্তু এটা তাদের চাওয়া স্বাভাবিক।” এই সূত্রেই কমিশন‌ের উদ্দেশে বিচারপতির প্রশ্ন, “আপনারা অন্য একটা দলকে কী করে সেই প্রতীক দিয়ে দিলেন?”

কমিশনের আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরী বলেন, “সাধারণ নির্বাচন এবং উপনির্বাচন আলাদা। এটা কমিশনের যুক্তি। একটা ভোটের ফল বেরিয়ে গেলেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ। ফ্রি সিম্বল বা প্রতীক দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশনই শেষ কথা বলে। তা ছাড়া এই ব্যাপারে কারও কোনও অধিকার নেই। প্রতীক কারও সম্পত্তি নয়।”

কমিশনের বক্তব্যে সন্তুষ্ট হননি বিচারপতি রাও। তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক তৃণমূলের আর্জির প্রেক্ষিতে কমিশন তাদের ওই প্রতীক দিয়েছে, সেটা বুঝলাম। কিন্তু আইএসএফ আবেদন করেছে, আর সেই আর্জি বিবেচনা করে দেখা হয়েছে, সেই নথি কোথায়? কোন আইনি ধারা মেনে নির্বাচন কমিশন প্রতীক গণতান্ত্রিক তৃণমূলকে দিয়ে দিল? এই ব্যাপারে আপনাদের বক্তব্য সন্তোষজনক নয়।” কমিশনের আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতির সংযোজন, “আসলে আপনার কর্তৃপক্ষ আগাম একটা অনিয়ম করেছেন। আপনি এখন তাঁদের পক্ষে যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। যদি নির্বাচন কমিশন কোনও একটি পক্ষের দ্বারা চালিত হয়, তা হলে যা হওয়ার তাই-ই হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভূমিকা স্বচ্ছ না-হলে এইটাই হবে।”

কমিশনের আইনজীবী বলেন, “প্রতীক দেওয়ার অধিকার কমিশনের, কোনও দলের নয়।” আইএসএফ-এর হয়ে হাই কোর্টে সওয়াল করেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “সেই অধিকার একপেশে হতে পারে না।”

খাম প্রতীক নিয়ে দু’টি বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছিল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)। আসন্ন উপনির্বাচনে সেই প্রতীক হাতছাড়া হয়েছে। তাই প্রতীক ফেরত চেয়ে ২১ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর দল।

পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হবে। তার আগে নির্বাচন কমিশন খাম প্রতীকটি তুলে দিয়েছে ঋতব্রতদের গণতান্ত্রিক তৃণমূলের হাতে। নওশাদের আইএসএফ-কে দেওয়া হয় আলমারি প্রতীক। এই ঘটনার জেরে খাম প্রতীক ফেরত চেয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেন নওশাদ। তিনি জানিয়েছিলেন, হাই কোর্টের দ্বারস্থও হবেন। সেইমতো আদালতে যান নওশাদ।

২০২১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে আইএসএফ। ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী এই দল প্রতিষ্ঠা করলেও, আগাগোড়া তার নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন তাঁর ছোটভাই নওশাদ। তখন হাতে সময় বেশি না-থাকায় নির্বাচন কমিশন থেকে কোনও প্রতীক পাননি তাঁরা। তাই বাধ্য হয়ে বিহারের ‘রাষ্ট্রীয় সেকুলার মজলিস পার্টি’-র খাম চিহ্ন নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছিল বাংলার এই দল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের স্থায়ী প্রতীকের জন্য কমিশনে আবেদন করেন নওশাদ। যদিও ভোটে খাম প্রতীক নিয়েই লড়াই করে তাঁর দল।

ISF Calcutta High Court Democratic Trinamool Congress Ritabrata Banerjee

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy