আরজি কর হাসপাতালে নিহত তরুণী চিকিৎসকের মাকে তাঁর মেয়ের খুনের বিচার দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বিকেলে বিধানসভায় নিজের বক্তৃতার পরে মুখ্যমন্ত্রী গিয়েছিলেন পানিহাটির বিজেপি বিধায়কের আসনের সামনে। তাঁর পাশে বসে দীর্ঘ ক্ষণ কথা বলেন তিনি। সেই কথোপকথনের সময়ই এই আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভা সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে জানান যে গোটা বিজেপি পরিবার এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁর পাশে আছে। তাঁর মেয়ের মৃত্যুর বিচার হবেই। বিগত সরকার ওই মৃত্যুর পর যে ভাবে তদন্তে গাফিলতি দেখিয়েছিল, তা তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার বরদাস্ত করবে না। বরং সেই সময় সরকারি মদতে যারা তদন্তে গাফিলতি করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরে আরজি কর প্রসঙ্গে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা বলেন, ‘‘ওই ঘটনায় যাঁরা যুক্ত, তাঁরা প্রত্যেকেই সাজা পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ওই ঘটনার তদন্তের বিষয়ে যা যা করণীয়, তা করেছেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা ওই ঘটনার বিচার দিতে বদ্ধপরিকর। ন্যায়বিচার হবেই, কাউকে ছেড়ে কথা বলা হবে না।’’
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৮ অগস্ট আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ করে খুন করা হয় এক কর্মরত চিকিৎসককে। সেই ঘটনায় উত্তাল হয় গোটা দেশ। শেষ পর্যন্ত ওই ঘটনায় সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। কিন্তু পাল্টা অভিযোগ ওঠে যে, ওই বছরেরই ১৪ অগস্ট ‘রাত দখল’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে আরজি কর হাসপাতালে খুনের প্রমাণ লোপাট করা হয়েছিল। ওই দিনই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃত চিকিৎসকের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে আরজি কর ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব নেয় সিবিআই। নিম্ন আদালতে এই ঘটনার বিচারপ্রক্রিয়া চললেও, ওই চিকিৎসকের মৃত্যুর প্রকৃত বিচারের দাবি থামেনি। আর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হন তাঁর মা। ওই নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষকে ২৮ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে জয়ী হন তিনি। ঘটনাচক্রে, তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্করের পিতা পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল। অভিযোগ, চিকিৎসকের মৃত্যুর পর তাঁর দেহ দ্রুত সৎকার করার ক্ষেত্রে নির্মলের বড় ভূমিকা ছিল।