দেবীপক্ষে রাজ্য জুড়ে দুর্গোৎসবের আবহ। কলকাতা থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে পুজোর উদ্বোধনে ব্যস্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারই মধ্যে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের তলবে মঙ্গলবার দিল্লি যাচ্ছেন তিনি। রানাঘাট, কল্যাণী ও বনগাঁয় একাধিক দুর্গাপুজোর উদ্বোধন সেরে দুপুরে দমদম বিমানবন্দর থেকে রাজধানীর উদ্দেশে রওনা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করে মঙ্গলবার রাতেই কলকাতায় ফেরার কথা তাঁর। বিজেপি সূত্রের খবর, আসন্ন কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচনকে সামনে রেখেই এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পুজো উদ্বোধনের পরই নিজের দিল্লি সফরের কথা জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তরফে ব্রিক্সের একটি ডিনার মিটিং আছে। বিকেলে যাব। রাতেই ফিরে আসব।’’
রবিবার থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন শুরু করেছেন শুভেন্দু। মঙ্গলবারও তাঁর কর্মসূচিতে রয়েছে নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলা। প্রথমে রানাঘাটের চারের পল্লি এবং কল্যাণীর নাইন-এ পার্কের দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করবেন তিনি। এর পরে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় গাঁধীপল্লি বিবেকানন্দ স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোর উদ্বোধন করার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ করে আকাশপথে বনগাঁ থেকে কলকাতায় ফিরবেন তিনি। তার পরেই দিল্লির বিমান ধরবেন। বিজেপি সূত্রে খবর, নভেম্বর মাসে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচন হতে পারে। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ শহরে প্রথম পুরভোটের মুখোমুখি হতে চলেছে বিজেপি সরকার। সেই নির্বাচনে দলের জয় নিশ্চিত করার কৌশল, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং প্রার্থী নির্বাচন-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও দিল্লি সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।
আরও পড়ুন:
পুজোর মরসুমে দিল্লি সফর সংক্ষিপ্ত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। মঙ্গলবার রাতেই কলকাতায় ফিরে বুধবার মুর্শিদাবাদ জেলা সফরে যাওয়ার কথা তাঁর। সেখানে কয়েকটি দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করবেন শুভেন্দু। রাজনৈতিক দিক থেকেও মুর্শিদাবাদ এখন বিজেপির কাছে গুরুত্বপূর্ণ। গত বিধানসভা নির্বাচনে জেলার ২২টি আসনের মধ্যে আটটিতে জয় পেয়েছিল বিজেপি। সম্প্রতি রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনেও জয় পেয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। ফলে জেলার পুজোর উদ্বোধনকে ঘিরে মুখ্যমন্ত্রীর সফর রাজনৈতিক তাৎপর্যও বহন করছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
উৎসবের কর্মসূচির পাশাপাশি পুরভোটের প্রস্তুতি নিয়ে দিল্লির বৈঠকে কী বার্তা আসে, এখন সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।