সত্যিই কি পরিবর্তন এল? না নতুন রঙে পুরনো তরলই ফিরে এসেছে রাজ্যের কলেজ প্রশাসনে? শনিবার রাজ্যের কলেজে কলেজে পরিচালন সমিতির (জিবি) সভাপতি ঘোষণার হাত ধরে ফের সেই চর্চা শুরু হয়েছে। পালাবদলের পরে রাজ্যের কলেজগুলি এত দিন সরকারি আমলা তথা প্রশাসকদের নিয়ন্ত্রণে চলছিল। এ বার সেখানে নতুন করে পরিচালন সমিতি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হল। তবে রাজ্যের ২৪৭টি কলেজের জিবি সভাপতি হিসেবে দু’-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া বিধায়ক বা সাংসদদেরই নাম উঠে এসেছে।
উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় শনিবার বলেন, “কলেজ সুষ্ঠু ভাবে চালানোর স্বার্থে জিবি গঠনে দেরি কাম্য নয়। রাজ্যের ২০১৭ সালের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় আইন মেনেই জিবি সভাপতি ঠিক হয়েছে। সাংসদ, বিধায়কেরা পদাধিকার বলেই সভাপতি হওয়ার যোগ্য। আমরা শিক্ষাগত যোগ্যতায় স্নাতক জনপ্রতিনিধিদের থেকেই জিবি সভাপতি বাছাইয়ের চেষ্টা করেছি।” কম-বেশি ৫০০টি কলেজের মধ্যে বাকিগুলির জিবি সভাপতির নামও শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে। জগন্নাথ নিজে বীরভূমে শম্ভুনাথ কলেজ, সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজ, বোলপুর কলেজের জিবি সভাপতি হয়েছেন।
২০১৭-র আগে কিন্তু কলেজে কলেজে জিবি গঠন করে নিজেদের ভোটাভুটিতে সভাপতি বাছাইয়েরই রীতি ছিল। তখনও শাসক দলের লোকেদের জিবিতে প্রভাব থাকত। কিন্তু ২০১৭-এর পর থেকে এই নিয়ন্ত্রণ আরও চেপে বসে। রাজ্যের আইন অনুযায়ী, জিবি সভাপতির শিক্ষা জগতের সঙ্গে যোগসূত্র থাকার কথা। কিন্তু নামমাত্র শিক্ষিত জনপ্রতিনিধিদেরও জমিদারি চালানোর ভঙ্গিতে কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষকদের উপরে ছড়ি ঘোরাতে দেখা যেত। এ যাত্রা জিবি সভাপতিদের মধ্যে কয়েক জনের যোগ্যতা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন নেই। যেমন আশুতোষ, শ্যামাপ্রসাদ, যোগমায়া কলেজে রয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত। দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, গঙ্গারামপুর কলেজের জিবি সভাপতি কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ আলিপুরদুয়ারে ফালাকাটা কলেজ ও লীলাবতী মহাবিদ্যালয়ে রয়েছেন। শিলিগুড়ি কলেজ, সূর্য সেন মহাবিদ্যালয়ে রয়েছেন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ।
হাওড়ায় ডক্টর কানাইলাল ভট্টাচার্য নরসিংহ দত্ত কলেজে রুদ্রনীল ঘোষ, সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজে কৌস্তভ বাগচী, বিদ্যাসাগর কলেজের তিনটিতে তাপস রায়, রাজা মণীন্দ্র, কাশীশ্বরী, শ্রীশচন্দ্রে রীতেশ তিওয়ারি, বঙ্গবাসী কলেজের তিনটিতে সজল ঘোষ, জয়পুরিয়ায় অশোক দিন্দা, গুরুদাস কলেজে তরুণজ্যোতি তিওয়ারির নাম রয়েছে।
জিবি সভাপতি হিসেবে কারও কারও যোগ্যতা নিয়ে নানা মহলে শঙ্কা রয়েছে। কলেজ অধ্যাপক, শিক্ষকদের পুরনো সংগঠন ওয়েবকুটার সভাপতি শুভোদয় দাশগুপ্ত বলেন, “মনে হচ্ছে, তৃণমূল আমলের জিবি মডেলটাই ফিরে আসছে। পালাবদলের পরে সরকার কলেজগুলিতে রাজনৈতিক দলের প্রভাব কমবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল। বিধায়ক, সাংসদেরা জিবির মাথায় বসলে কি কিছু বদলাবে?” এআইডিএসও-র রাজ্য কমিটির সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায়ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের কলেজে বসানোর নিন্দা করেন। তবে উচ্চ শিক্ষা দফতর সূত্রের দাবি, আপাতত এই ব্যবস্থা চললেও জিবি অচিরেই ঢেলে সাজা হবে। জিবি-র গঠনে তৃণমূল আমলে অন্তত তিন জন সরকারি প্রতিনিধি থাকতেন। এ বার তা না-ও হতে পারে। জিবি সভাপতিদের তালিকাতেও অদূর ভবিষ্যতে বদল আসতে পারে।