প্রায় এক যুগ আগে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, প্রশিক্ষণের বাহানায় সদ্য পাশ করা নতুন আইএএস-দের ‘মগজ ধোলাই’-এর বন্দোবস্ত করছে কেন্দ্র। সে সময় জেলায় জেলায় কাজে নেমে পড়ার কথা এমন নতুন আমলাদের আরও এক দফা প্রশিক্ষণের জন্য দিল্লিতে তলব করেছিল প্রধানমন্ত্রীর দফতর (পিএমও)।
সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করে গত কাল তৃণমূলের যুগ্ম জাতীয় সম্পাদক তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন একটি চিঠি দিলেন কমিটির চেয়ারম্যান রাধামোহন দাস আগরওয়ালকে। সম্প্রতি কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই প্রথমবারের জন্য নতুন প্রশিক্ষিত আইপিএস অফিসারদের (২০২৫ ব্যাচের) রাজ্যের প্রশিক্ষণ নেওয়ার আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে প্রশিক্ষণের জন্য নিয়োগ করা হবে। ডেরেক তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, ‘আইপিএস অফিসারদের কেন্দ্রীকরণ করা হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় তার প্রভাব পড়তে বাধ্য। ক্যাডারদের নিজের রাজ্যে পাঠানোর আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে তাঁদের জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। কমিটির উচিত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ক্যাডারদের পরিচালনা করা, নিয়োগ করার বিষয়গুলিকে খতিয়ে দেখা। বিশেষ করে রাজ্য সরকারগুলির প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন যাতে বহাল থাকে এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় ভারসাম্য রক্ষা পায়।”
প্রাক্তন আমলা তথা তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভার সদস্য জহর সরকারের বক্তব্য, “এই প্রশিক্ষণ অনেকটাই সৌজন্যের ব্যাপার। তবে রাজ্যের তালিমের সময় কেটে নিয়ে কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ দেওয়ানো ঠিক নয়।”
তৃণমূল এই তালিমের বিষয়টিকে কার্যত ‘মগজ ধোলাই’ হিসেবে তুলে ধরে পশ্চিমবঙ্গে ‘পুলিশি নির্যাতনের’ সঙ্গে একে জুড়তে চাইছে। দলীয় সূত্রের বক্তব্য, ‘‘এর ফলে বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে পুলিশের উৎপীড়ন আরও বাড়বে, বাংলায় যা ইতিমধ্যেই আমরা দেখতে পাচ্ছি।’’
প্রসঙ্গত দেড় মাস আগেই রাধামোহনকে লেখা একটি চিঠিতে পশ্চিমবঙ্গে চলতি পুলিশ নির্যাতন এবং বর্বরোচিত আচরণে সিএপিএফ (সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স)-এর ভূমিকা নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ডেরেক। চিঠিতে পশ্চিমবঙ্গে চলতি ‘পুলিশ নির্যাতন এবং বর্বরোচিত আচরণে’ সিএপিএফ-এর ভূমিকা নিয়ে বিশদে বলা হয়েছিল। পরে কমিটির আর এক সদস্য কংগ্রেসের অজয় মাকেন, ডেরেকের বক্তব্যকে সমর্থন করে এই বিষয়ে একাধিক চিঠি লিখেছেন চেয়ারম্যানকে। বাংলার ভোটের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মাকেন লিখেছেন, ‘২ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানকে নিযুক্ত করা হয়েছিল বাংলার ভোটে। যে ৭০ হাজার জওয়ানকে ভোট পরবর্তীহিংসা প্রতিরোধে নিয়োগ করা হয়েছিল, তারা ৪ মে কার্যত নিশ্চল হয়েছিলেন’।