নেপালে তন্নতন্ন করে খুঁজেও সন্ধান পাননি কাছের জনের। তাই ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা দিচ্ছেন কেউ। কেউ করছেন নিখোঁজ-ডায়েরি।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হড়পা বানের পরে ১০ দিন পেরিয়েছে। নতুন করে এ রাজ্যের বাসিন্দা নিখোঁজ কারও খবর মেলেনি। বর্ধমানের দেওয়ানদিঘির সন্দীপকুমার গড়াইয়ের পরিজনের ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়েছে শনিবার। সকালে পুলিশ সন্দীপের বাড়িতে দিয়ে তাঁর দাদা দীপক গড়াই ও শ্যালক রিন্টু সেনকে বর্ধমান মেডিক্যালে নিয়ে যায়। দুপুরে সেখানেই রক্তের নমুনা নেওয়া হয় দীপকের। দীপকেরা নেপালে গিয়েছিলেন। তবে সন্দীপের খোঁজ পাননি। ফেরার আগে কাঠমান্ডুতে নেপাল পুলিশ হাসপাতালেও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা দিয়েছেন, জানান দীপক।
দুর্গাপুরের পাঁচ নিখোঁজ পর্যটকের মধ্যে বেনাচিতির শ্রীনগরপল্লির সুভাষচন্দ্র ঘোষের পরিজনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে শুক্রবার। শিলিগুড়ির সমর মণ্ডলের পরিবারের সদস্যের ডিএনএ-র নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। কৈলাস-মান সরোবর ভ্রমণ করে ফিরে বড় ছেলে নিলয়ের কাছে আমেরিকায় যাওয়ার কথা ছিল চন্দননগরের শিপ্রা রায় পাটারির। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে আমেরিকা থেকে চলে আসা ভাই নিলয়কে নিয়ে নেপালে দু’দিন ধরে মাকে খুঁজেছেন অনীক। খোঁজ না পেয়ে শনিবার বাড়ি ফিরেছেন তাঁরা। বসিরহাটের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দম্পতি স্বপন ও মৌ মণ্ডলের ছেলে উষ্ণীষ এ দিন থানায় বাবা, মায়ের নামে নিখোঁজের ডায়েরি করেছেন। উষ্ণীষও নেপাল থেকে খালি হাতে ফিরেছেন।
নেপালের ধ্বংসস্তূপ থেকে এ দিনও জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এক বৃদ্ধাকে। খড়্গপুর শহরের প্রাক্তন রেলকর্মী স্বপনকুমার সিংহের দাদা বৃদ্ধ মিলনকুমার সিংহ বলেন, “এই যে সুড়ঙ্গ বা বাড়ির ছাদ থেকে এখনও জীবিত অবস্থায় মানুষকে উদ্ধার করা যাচ্ছে, এতে মনে হচ্ছে বেঁচে ফেরা সম্ভব।” হাওড়ার আন্দুলের অনিতা দাসের পুত্রবধূ মধুমিতা সরকার বলেন, ‘‘উদ্ধারকারী দলের উপরেই ভরসা রাখছি। শাশুড়ির খবর পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি।’’ বীজপুরের শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ের স্বামী শুভ্রাংশু রায়ের প্রশ্ন, ‘‘ওরা কোনও ভাবে যোগাযোগ করে পারছে না, এমন হয়নি তো!’’