Advertisement
E-Paper

অনুপ্রবেশকারীদের জন্য জাল নথি তৈরির হাব! সন্ধানে রাজ্যে হানা ইডির, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার আড়ালেও লেনদেনের ইঙ্গিত

বৃহস্পতিবার কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। একই সঙ্গে দিল্লি, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গাতেও তাঁরা হানা দেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬ ১৩:৩৫
ED raids multiple locations in West Bengal and other states in connection with Bangladeshi and Rohingya trafficking and related fake document hub

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ‘সিন্ডিকেট’-এর কোটি কোটি টাকার অর্থভান্ডার এবং জাল নথি তৈরির চক্রের পান্ডাদের খোঁজে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১৩ জায়গায় হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

বৃহস্পতিবার এই রাজ্যের কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। একই সঙ্গে দিল্লি, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গাতেও হানা দেন গোয়েন্দারা।

ইডি সূত্রে খবর, গোয়েন্দাদের নিশানায় রাজ্যের ‘জাল নথি হাব’। সূত্রের খবর, অবৈধ পথে সীমান্ত পেরিয়ে রাজ্যে ঢোকা রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের ভারতীয় নথি তৈরি করার একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক রয়েছে। তারা মোটা টাকার বিনিময়ে অনুপ্রবেশকারীদের আধার কার্ড, এপিক, প্যান কার্ড থেকে শুরু করে ই শ্রম কার্ডের মতো ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দেয়। সেই নথি দেখিয়েই পশ্চিমবঙ্গ থেকে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষত, কর্নাটক, তামিলনাডু, পঞ্জাব, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশে দালালদের হাত ধরে পৌঁছে যান অনুপ্রবেশকারীরা।

সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স মানবপাচার নিয়ে তদন্ত শুরু করে। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই খাস কলকাতায় চক্রের এক পান্ডার হদিস পায়। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের তদন্তেই উঠে আসে, কলকাতা লাগোয়া উত্তর ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদে অনুপ্রবেশকারীদের জাল নথি তৈরির বড় চক্র সক্রিয়।

বাংলা থেকে শ্রমিক সরবরাহের আড়লে দালালেরা অনুপ্রবেশকারীদের জাল নথি দিয়ে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেয় বলে আদালতে জানিয়েছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।

ইডির প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে রাজ্যের একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নাম। তদন্তকারীদের ইঙ্গিত, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার আড়ালে মানবপাচার চক্রের নথি তৈরি থেকে শুরু করে বিপুল টাকার আর্থিক লেনদেনের হদিস মিলেছে। অনেক ক্ষেত্রেই মূল চক্রকে আড়াল করতে ‘ভাড়ার অ্যাকাউন্ট’ ব্যবহার করা হয়েছে। ছোট ছোট অঙ্কের লেনদেন কিন্তু তা করা হয়েছে বহু অ্যাকাউন্ট থেকে।

ইডির দাবি, এই মানবপাচারকে ঘিরে বহু কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা চলছে যার শিকড় লুকিয়ে এই রাজ্যেই। তারই হদিস পেতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ইডি তল্লাশি।

এর আগে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) বাংলাদেশ থেকে মহিলা এবং নাবালিকা পাচারের একটি চক্রের সন্ধানে রাজ্যের সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকায় তল্লাশি চালিয়েছিল। সেই সময়ও তদন্তে উঠে এসেছিল একটি সংগঠিত জাল নথি তৈরির চক্রের অস্তিত্ব, যারা আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সঙ্গে কাজ করে।

ED Bangladeshi Rohingya issue

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy