এসআইআর শেষ হয়ে যাওয়া রাজ্যগুলিতে বাদ পড়া ভোটারদের ভোটার তালিকাভুক্ত করতে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বাদ পড়ারা ছাড়াও, নতুন এবং প্রথম ভোটারদের তালিকাভুক্ত করার উপরে জোর দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বিধি অনুযায়ী, ফর্ম-৬ দাখিল করে নতুন ভাবে নাম তোলার আবেদন করতে হয়। এ ক্ষেত্রেও তা-ই করতে হবে বলে কমিশন জানিয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ফর্ম-৬ পূরণ করানো যায় না বলে প্রশ্ন তুলেছেন দেশের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি।
যদিও কমিশন-কর্তাদের একাংশের বক্তব্য, বাদ পড়া ভোটারদের ক্ষেত্রে একই পদ্ধতিতে নাম তোলার আইন রয়েছে। প্রধানত যাঁরা মৃত, অনুপস্থিত, ঠিকানা বদল বা ডুপ্লিকেট (এএসডিডি) গোত্রে পড়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, মূলত তাঁদের জন্যই এই পদ্ধতিতে কাজ হবে। কমিশন কর্তাদের একটি অংশের ধারণা, যোগ্য ভোটার বাদ দেওয়া নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার পাল্টা রিপোর্ট প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যও এই বিশেষ অভিযানের নেপথ্যে থাকতে পারে।
কুরেশির বক্তব্য, কোনও বাদ পড়া ভোটার ফর্ম-৬ পূরণ করতে পারবেন না। এই ফর্ম শুধু নতুন ভোটারদের জন্য। যদিও কমিশন-কর্তাদের একাংশের বক্তব্য, বাদ পড়া ভোটারদের ক্ষেত্রে একই পদ্ধতিতে নাম তোলার আইন রয়েছে। ১৯৬০ সালের রেজিস্ট্রেশন অব ইলেক্টোরাল রুলসের ১৩ (১) ধারা অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ করা আইনবিরুদ্ধ নয়। কোনও ব্যক্তির নাম এখন ভোটার তালিকায় নেই, প্রশাসনিক কারণে তা বাদ পড়েছে, এমন ক্ষেত্রে এই ধারায় তা ফেরানো সম্ভব। ঘটনাচক্রে, ভোটার তালিকায় নাম ফেরানোর একটিই পদ্ধতি— ফর্ম-৬ দাখিল করে নতুন ভোটারদের মতো। কমিশন সূত্র বলছে, প্রধানত যাঁরা মৃত, অনুপস্থিত, ঠিকানা বদল বা ডুপ্লিকেট (এএসডিডি) গোত্রে পড়ে বাদ গিয়েছেন, মূলত তাঁদের জন্যই এই পদ্ধতি মেনে কাজ হবে। তবে প্রকাশ্যে না বললেও কমিশন সূত্র জানাচ্ছে, এই অভিযানে কিন্তু বিচারবিভাগীয় ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীরা নতুন করে আবেদন করতে পারবেন না।
কমিশনের এক কর্তা জানাচ্ছেন, অনুপস্থিত এবং ঠিকানা বদল গোত্রভুক্তদের মধ্যে কেউ বাদ পড়ে থাকলে, তা খুঁজে বার করা যেতে পারে এই অভিযানে। যদি সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বাদ পড়া অথচ যোগ্য কাউকে পাওয়া যায়, তাঁকে ভোটার তালিকাভুক্ত করা হবে। যদি কেউ ভুলবশত মৃত গণ্য হয়ে থাকেন, তা-ও ধরা পড়বে। আর যদি তেমন কাউকে না পাওয়া যায়, তা হলে বুঝতে হবে কমিশনের কাজে ভুল ছিল না। ওই কর্তার দাবি, ‘‘এসআইআর চলাকালীন জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কোনও কারণে কেউ বাদ পড়ে থাকলে, পরে তাঁর নাম তালিকাভুক্ত হবে ফর্ম-৬ এর মাধ্যমে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরেও একই পদক্ষেপ হয়। তার পরে কিছু মানুষ বাদ পড়ার কথা জানালে তাঁদের সেই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অনেকের নাম তালিকায় ফিরেওছে।’’