জমির ক্ষতিপূরণ নিয়ে অসন্তোষের জেরে আলিপুরদুয়ারের জয়গাঁয় প্রস্তাবিত স্থলবন্দর নির্মাণের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ১১ জনকে সোমবার গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। মঙ্গলবার আদালত ধৃতদের তিন দিনের জেল হেফাজতে পাঠায়। প্রশাসনের ভূমিকা ও ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে আজ, বুধবার ফের হাই কোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছে ‘পশ্চিমবঙ্গ চা মজদুর সমিতি’।
জয়গাঁর গোটিবাড়ি এলাকায় প্রায় ৩০ একর জমিতে এই স্থলবন্দর তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। তৃণমূল সরকারের আমলে জমিটি ‘ল্যান্ড পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া’-কে হস্তান্তর করা হয়। তখন থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ সে সেদ্ধান্তের বিরোধিতায় সরব হন। সে সময় তাঁদের পাশে দাঁড়ান রাজ্যের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক বিশাল লামা।
দীর্ঘদিন থমকে থাকার পরে গত জুলাইয়ে ফের স্থলবন্দরের জন্য জমি অধিগ্রহণ শুরু হয়। পুনর্বাসন প্যাকেজে পাকা বাড়ির জন্য ৫ লক্ষ ৫০ হাজার এবং অস্থায়ী বাড়ির জন্য ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কৃষিজমি, গাছপালার মূল্য নির্ধারণ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের শিক্ষিত সদস্যদের স্থলবন্দরে কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকারের কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু ফাঁকা জমির ক্ষতিপূরণের বিষয়টি স্পষ্ট হয়নি। বাসিন্দাদের দাবি, তাঁদের পূর্বপুরুষ চা বাগানে কাজের সূত্রে ওই এলাকায় আসেন। কিন্তু পুরুষানুক্রমে বাস করলেও মেলেনি জমির পাট্টা। এই পরিস্থিতিতে গত জুলাই থেকে তাঁরা প্রকল্প এলাকায় ধর্নায় বসেন।
সম্প্রতি ‘চা মজদুর সমিতি’র এক মামলায় আদালত জানায়, স্থলবন্দর নির্মাণে স্থগিতাদেশ নেই। তবে ‘যোগ্যদের’ ভবিষ্যতে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ২০ নভেম্বরের মধ্যে হলফনামা জমা ও ২৬ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি। সোমবার প্রশাসন কাজ শুরু করতে গেলে বিক্ষোভ ছড়ায় ও ১১ জন গ্রেফতার হন। ‘চা মজদুর সমিতির নেত্রী অনুরাধা তলোয়ারের দাবি, প্রশাসনের আলোচনার সদিচ্ছা না থাকায় তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন। মন্ত্রী বিশাল লামা বলেন, ‘‘অতীতেও এই সমস্যা সমাধানে এলাকাবাসীর পাশে ছিলাম। আগামীতেও থাকব। তবে মনে রাখতে হবে, আমরা কেউ আদালতের ঊর্ধ্বে নই।’’