E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

কৃত্রিম হ্রদের জলস্তর কমাতে বিস্ফোরণ ভুটানে, রাজ্যে স্বস্তি

বৃহস্পতিবার রাতে ভুটানে শিনতাফু হিমবাহ গলা জলে পুষ্ট হ্রদের পাড় ভেঙে শুরু হয় বিপর্যয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৬ ০৮:৫০
ভুটানের শিনতাফু হ্রদ।

ভুটানের শিনতাফু হ্রদ।

হিমবাহ-হ্রদের পাড় ভেঙে নেমে আসা জল কৃত্রিম হ্রদের আকারে জমে থাকায় আশঙ্কা ছিল হড়পা বানের। এ বার পাড় বরাবর বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেই কৃত্রিম হ্রদের জলস্তর কমানোর কাজ শুরু করেছে ভুটান। শুক্রবার তিনটি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল। তাতে তৈরি হওয়া গর্ত দিয়ে বেরিয়েছে জল। জলস্তর বেশ খানিকটা কমেছে ওই কৃত্রিম হ্রদে। সে খবরে স্বস্তিতে রাজ্যের সেচ দফতর। পাশাপাশি, ভুটান সরকার জানিয়েছে, ওই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে আটকে পড়া ১২৩ জন পর্যটকের অধিকাংশকে শনিবার দুপুরের মধ্যে সমতলে নামানো হয়েছে। বাকিদের নামানোর কাজ চলছে। খুলে গিয়েছে সব রাস্তাও। এরই মধ্যে এ দিন ভোরে আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামে ভুটান থেকে আসা সঙ্কোশ নদীর জল ঘোলা হয়ে যায়। প্রচুর মরা মাছ ভেসে ওঠে।

বৃহস্পতিবার রাতে ভুটানে শিনতাফু হিমবাহ গলা জলে পুষ্ট হ্রদের পাড় ভেঙে শুরু হয় বিপর্যয়। সে খবরে ভুটানের পাশাপাশি উদ্বেগ বেড়েছিল এ রাজ্যের আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়ির। কারণ, সঙ্কোশ, জলঢাকা-সহ একাধিক নদী ভুটানের জলে পুষ্ট।

ভুটান সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, তকসেমাখাং এলাকার উপরে ওই কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হয়েছে। ভুটানের সেনাবাহিনীর রেডিয়োয় ওই হ্রদের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানা গিয়েছে। সে দেশের সরকারি সূত্রের দাবি, হ্রদে এখন যে পরিমাণে জল রয়েছে, তাতে আশঙ্কার কারণ নেই। তবে উত্তরবঙ্গের সেচকর্তাদের একাংশের দাবি, হঠাৎ প্রবল বৃষ্টিতে ফের পরিস্থিতি বদলাতে পারে। তাই ভুটানে হয় নতুন বাঁধ তৈরি করতে হবে, নয় কৃত্রিম হ্রদটিকে ধসিয়ে জল বার করে দিতে হবে। সেচ দফতরের মুখ্য বাস্তুকার (উত্তর-পূর্ব) কৃষ্ণেন্দু ভৌমিক শনিবার বলেন, “পরিস্থিতির উপরে নজর রয়েছে।”

কুমারগ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, এ দিন সঙ্কোশ নদীতে ভেসে ওঠা মহাশোল, আড় মাছ সংগ্রহ করতে হুড়োহুড়ি পড়ে। খবর পেয়ে এলাকায় যান বনমন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক মনোজকুমার ওরাওঁ। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হাদিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘‘কোনও কারণে বাইরের বিষাক্ত জল নদীতে মিশেছে। তাতে নদীর জল দূষিত হয়েছে। এ সব কারণেই সাধারণত জল ঘোলা হয়। তাতে জলে অক্সিজেনের মাত্রা কমে মাছ-সহ জলজ প্রাণীর মৃত্যু হতে পারে।” কুমারগ্রাম ব্লক মৎস্য সম্প্রসারণ আধিকারিক বিপুল মজুমদার বলেন, ‘‘নদীর জলের নমুনা সংগ্রহ করেছি। প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে, জলে মাত্রাতিরিক্ত ডলোমাইট বা কাদা ছিল‌। সে সব কানকোতে ঢুকে অক্সিজেনের সমস্যাতেও মাছের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।’’ ভুটানে হিমবাহ-হ্রদের পাড় ভাঙায় নীচের দিকে নেমে আসে জলে দূষিত পদার্থ মিশে এই কাণ্ড হয়েছে কি না, তা নমুনার বিশদ পরীক্ষার পরে বোঝা যাবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। আপাতত, তিন দিন সঙ্কোশে ভেসে ওঠা মরা মাছ নদীর পারের বাসিন্দাদের খেতে বারণ করেছেন মন্ত্রী এবং প্রশাসনের কর্তারা।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Bhutan North Bengal

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy