E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

এসএসআর-এও নাম বাদের চক্রান্ত, সর্বদলে অভিযোগ বিরোধীদের

এসআইআর-এ কারও নাম ভুল করে বাদ গেলে, নতুন করে নাম তোলার জন্য তাঁকে ফর্ম-৬ পূরণ করতে বলেছে কমিশন। কিন্তু ফর্ম-৬ হল প্রথম বারের ভোটারের নাম তোলার জন্য। ভুল তথ্য দিলে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে শাস্তির বন্দোবস্তও থাকে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ০৭:৩৪
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরে সর্বদল বৈঠকের পরে কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরে সর্বদল বৈঠকের পরে কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা। — নিজস্ব চিত্র।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়ায় ভুল করে নাম বাদ গিয়েছে, এমন পুরনো ভোটারেরা ফর্ম-৬-এ আবার নাম তুলতে আবেদন করলে সমস্যা হবে না।— বিতর্কের মুখে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের (সিইও) মঙ্গলবার এই মর্মে চিঠি দিয়ে জানাল নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে, পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত এলাকায় ভোটার তালিকার যে বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধন (এসএসআর) শুরু হতে চলেছে, তাতেও ফের লোকজনের নাম বাদের চেষ্টা হতে পারে বলে কমিশনের সর্বদল বৈঠকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলগুলি। পক্ষান্তরে, বিজেপি বলেছে ত্রুটি-মুক্ত ভোটার তালিকা তৈরির সুযোগের কথা।

এসআইআর-এ কারও নাম ভুল করে বাদ গেলে, নতুন করে নাম তোলার জন্য তাঁকে ফর্ম-৬ পূরণ করতে বলেছে কমিশন। কিন্তু ফর্ম-৬ হল প্রথম বারের ভোটারের নাম তোলার জন্য। ভুল তথ্য দিলে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে শাস্তির বন্দোবস্তও থাকে। কেন নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের বা এসআইআর-এর খসড়া তালিকায় নাম না-থাকা ভোটারদের ফর্ম-৬ পূরণ করতে বলা হচ্ছে, তা নিয়ে কমিশনের উত্তর চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিরোধীদের অভিযোগ, কমিশন জেনেশুনে ভোটারদের বেআইনি কাজ করাচ্ছে। এই আবহেই, কমিশন সিইও-দের বলেছে, আগে ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও নতুন করে নাম তুলে ফর্ম-৬ পূরণে সমস্যা নেই। ভুল তথ্য দিয়ে আইনি ব্যবস্থার মুখে পড়ার আশঙ্কা অমূলক। দিল্লি হাই কোর্ট ১৪ অক্টোবর নীলোৎপল দত্ত বনাম নির্বাচন কমিশনের মামলায় এই কথা স্পষ্ট জানিয়েছে। ইআরও-রা এই সব ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ করবেন না। ২০২২-এর ১ অগস্ট থেকে এই ব্যবস্থা চলছে।

এসআইআর-এর সময় ফর্ম-৬-এর পরিবর্তন নিয়েও সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের মুখে পড়েছিল কমিশন। কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের এই চিঠিতে স্পষ্ট, এসআইআর প্রক্রিয়ায় কতটা সমস্যা রয়েছে। কমিশন এখন ‘ক্ষতি মেরামত’ করছে। ফর্ম-৬-এ স্পষ্ট জানতে চাওয়া হয়, প্রথম বার ভোটার হিসাবে নাম তোলার আবেদন কি না। কমিশন প্রথমে ভোটারদের দিয়ে ভুল কথা বলিয়ে এখন তাঁদের আইনি প্রক্রিয়া থেকে বাঁচাচ্ছে।

এরই মধ্যে, এসএসআর নিয়ে রাজ্যে সিইও দফতরে সর্বদল বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন মমতা-তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ, সিপিএমের কল্লোল মজুমদার, পলাশ দাস, কংগ্রেসের প্রশান্ত দত্ত, আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়, অজিতেশ পাণ্ডে এবং বিজেপির শিশির বাজোরিয়া প্রমুখ। বৈঠকে কমিশন বলেছে, এসএসআর-এর সময়ে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে এক-এক জন ব্যক্তি দিনে ১০টি করে ফর্ম-৭, অর্থাৎ নাম বাদ দেওয়ার আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন। বিরোধীদের এক যোগে অভিযোগ, এসআইআর-এর সময়ে নাম বাদের আবেদনগুলির এখনও ফয়সালা হয়নি। আবার নাম বাদ দেওয়ার রাস্তা খুলে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে, ফর্ম-৭-এর মাধ্যমে মিথ্যা আবেদন করেছেন, এমন উদাহরণ এবং সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী শাস্তির ঘটনা সামনে আসছে না কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।

এসআইআর-এ বাদ যাওয়া যাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন, তাঁরা এসএসআর-এর সময়ে ফর্ম ৬-এ আবেদন করতে পারবেন না জানিয়ে এই নিয়ে পদক্ষেপ করার দাবি তুলেছে বিরোধীরা। যদিও কমিশন সূত্রে বক্তব্য, এটি বিচার-বিভাগীয় বিষয়। বিরোধীদের আরও দাবি, আসন্ন পুরভোটের আগে কলকাতার প্রায় ১ লক্ষ ২৬ হাজার এবং হাওড়ার প্রায় ৩৯ হাজার ‘ঝুলে থাকা’ ভোটারদের বিষয়টি নিয়ে ট্রাইবুনালে যাতে দ্রুত নিষ্পত্তি করেন বিচারকেরা, তা নিয়ে পদক্ষেপ করুক কমিশন। পাশাপাশি, এই সংক্রান্ত তথ্য কমিশনের ওয়েবসাইটে নিয়মিত আপলোড করার দাবিও তুলেছে বিরোধীরা।

বিজেপি নেতা শিশিরের অবশ্য বক্তব্য, “এসআইআর-এর তালিকাতেও কিছু ভুল রয়েছে। একই ব্যক্তিকে ২৬৯ জন বাবা বলে দেখিয়েছেন এবং নামও রয়েছে ভোটার তালিকায়। তথন অন্য রাজনৈতিক দলগুলি এই নিয়ে সক্রিয় হয়নি। এসএসআর-এর ফলে এসআইআর-এর ভুল-ভ্রান্তি সংশোধনের সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এতে আপত্তির কী আছে?”

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Election Commission Opposition Parties

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy