যাঁকে ‘পরিচ্ছন্ন জনপ্রতিনিধি’ বলে বিধানসভায় উল্লেখ করেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বুধবার মালদহের চাঁচলে সেই বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা ‘দুই বিঘা জমি’র পঙ্ক্তি ‘তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে’ উল্লেখ করে ঘটনাস্থল ছাড়েন বিধায়ক।
তৃণমূলের টিকিটে রতুয়া থেকে জিতে সমর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে গিয়েছেন। সূত্রের দাবি, ২০২১ সালে বিধায়ক সামসি সমবায় সমিতির ‘স্পেশাল অফিসার’ ছিলেন। তখন চাঁচলে সমিতির ১৩ শতক জমি ২১ লক্ষ টাকায় বিক্রি হয়। জমি বিক্রিতে অনিয়মের পাশাপাশি, জমি বিক্রির টাকাও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। ২০২৩-এর ডিসেম্বরে ‘রিয়েল টাইম গ্রস সেট্লমেন্ট’-এর (আরটিজিএস) মাধ্যমে সে জমি বিক্রির টাকা জমা করেন এক জন। নজরে আসতেই তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত-রিপোর্টে তৎকালীন ‘স্পেশাল অফিসার’-কে দায়ী করা হয় বলে দাবি। সামসি সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান সাধন চক্রবর্তী বলেন, “সমিতির রেজ়োলিউশন ছাড়া, বিধায়ক একা জমি বিক্রি করতে পারেন না।” ‘ডেপুটি রেজিস্ট্রার অব কো-অপারেটিভ সোসাইটি’ (ডিআরসিএস) অভিযোগ জানানোর পরে, তদন্তের জন্য এ দিন বিধায়ককে থানায় ডাকা হয়। অভিযোগ, থানায় হাজিরা দিয়ে বেরোতেই ‘চোর চোর’ স্লোগান দিয়ে বিজেপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের একাংশ বিধায়ককে গ্রেফতারের দাবি জানান। যদিও বিজেপির যুব মোর্চার উত্তর মালদহের সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ শর্মা বলেন, “এটা বিজেপির কর্মসূচি নয়। আমি গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য। সচেতন নাগরিক হিসেবে অন্যদের সঙ্গে প্রতিবাদ জানিয়েছি।”
বিধায়কের দাবি, “জমি বিক্রির সঙ্গে আমার কোনও যোগ নেই। ভিত্তিহীন অভিযোগ।” উত্তর মালদহের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, “তৃণমূলের উপরে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। তাঁদের বিক্ষোভে বিজেপির কেউ থাকতে পারেন। অন্যায় হলে, আইনের মাধ্যমে যা হওয়ার হবে। এ রকম না হওয়াই বাঞ্ছনীয়।” জেলা বিজেপির এক নেতা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, সমরবাবুর মতো পরিচ্ছন্ন জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে রাজ্য প্রশাসন গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগ করবে না। কারণ থাকলেও অন্য আইন প্রয়োগ করা হবে না, কোথাও বলা হয়নি।”