রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে কৃষি সমবায় সমিতিতে প্রভাব খাটানোর অভিযোগে তদন্ত আগেই শুরু করেছিল অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন। বৃহস্পতিবার তাদের একটি প্রতিনিধিদল জাঙ্গিপাড়ার সিংটি কৃষি সমবায় সমিতিতে যায়। সেখান থেকে একাধিক নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরের অডিট রিপোর্ট সমবায় থেকে নিয়ে গিয়েছেন তদন্তকারীরা।
আরও পড়ুন:
সমবায়ে আর্থিক দুর্নীতির ঘটনায় নজরে রয়েছেন স্নেহাশিস। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, কৃষক না হয়েও তিনি সমবায় থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছেন মন্ত্রী হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের এই নেতার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন মমতাপন্থী বিধায়ক কুণাল ঘোষ। অভিযোগ, স্নেহাশিস সমবায় থেকে নিজের নামে ৮৫ লক্ষ টাকা এবং আত্মীয়ের নামে আরও ১০ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছেন। কিন্তু কৃষক ছাড়া অন্য কারও সেখান থেকে ঋণ পাওয়ার কথাই নয়। কী ভাবে এত টাকা ঋণ তিনি পেলেন? প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সমবায় সমিতির আর্থিক লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগে ম্যানেজার স্বপন পাত্র এবং কর্মী রমেশ পাত্রকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার কমিশনের প্রতিনিধিদল স্নেহাশিস ঘনিষ্ঠ সেই স্বপনের বাড়িতেও গিয়েছিল। তিনি রসিদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। কিন্তু তাঁর বাড়ি তালাবন্ধ ছিল। সমবায়ের দায়িত্বে থাকা বর্তমান প্রধান জানিয়েছেন, কমিশনের প্রতিনিধিদল একাধিক নথি নিয়ে গিয়েছে। গত পাঁচ বছরের অডিট রিপোর্ট সংগ্রহের বিষয়টিও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
সিংটি সমবায় সমিতিতে দুর্নীতি দমন কমিশন। বৃহস্পতিবার। —নিজস্ব চিত্র।
সিংটি সমবায়ে ঘণ্টা তিনেক ছিলেন কমিশনের প্রতিনিধিরা। প্রাথমিক তদন্তে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে, জানিয়েছেন কমিশনের এক আধিকারিক। স্নেহাশিস নিজে সিংটি গ্রামের বাসিন্দা নন। কিন্তু ওই এলাকায় জাঙ্গিপাড়ার ২৭৫ নম্বর বুথের ভোটার তিনি। এলাকার বাসিন্দা না হয়েও তিনি কী ভাবে সেখানকার ভোটার হলেন, খতিয়ে দেখবে কমিশন।