প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ওবিসি সংরক্ষণের জটিলতা নিয়ে ফের কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের কারও বক্তব্য, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময়ে ওবিসি হিসেবে আবেদন করেছিলেন। নিয়োগের মাঝামাঝি নিয়ম বদল হলে আর্থিক ভাবে দুর্বল গোষ্ঠীর (ইডব্লিউএস) সুবিধা দিতে হবে। ওবিসি হিসেবে টেট পাশ করার পরে সংরক্ষণের নিয়ম বদল হওয়ায় সেই সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়েছে, এই অভিযোগ তুলেও মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলার শনিবারই শুনানি হয়েছে। বাকি মামলার শুনানি আগামিকাল, সোমবার হবে।
সংরক্ষণের নতুন নিয়মের জটিলতায় বিপাকে পড়া একদল মামলাকারীর আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত জানান, ২০২৫ সালের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরে ওবিসি হিসেবে আবেদন করেছিলেন তাঁরা। নিয়োগের মাঝামাঝি এসে নিয়ম বদল হওয়ায় প্রার্থীপদ বাতিল হয়েছে। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী, ওবিসি সংরক্ষণ বাতিল হওয়ায় এঁরা বর্তমানে ‘ইডব্লিউএস’ হিসেবে গণ্য হতে পারেন। এ দিন বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের নির্দেশ, মামলাকারীদের ইন্টারভিউয়ে ডাকতে হবে। তাঁরা কোন গোত্রে বিচার্য হবেন, তা মামলার ফলাফলের উপরে নির্ভর করবে। একই মামলা আরও একটি হয়েছে। সেটির শুনানি আগামিকাল, সোমবার হবে বলে ওই মামলার আবেদনকারীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানান।
আরও কিছু চাকরিপ্রার্থীর অভিযোগ, তাঁরা ২০২২ সালে টেট ‘ওবিসি’ হিসেবে পাশ করেছিলেন। সংরক্ষণের নতুন নিয়ম চালুর পরে তাঁদের ‘টেট’ শংসাপত্র বাতিল করা হয়েছে। এই মামলাকারীদের একাংশের আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত জানান, ওবিসি মামলায় হাই কোর্ট বলেছিল যে, রায় ঘোষণার আগে যাঁরা ওবিসি হিসেবে সুবিধা পেয়েছেন তাঁদের সেই সুবিধা বাতিল হবে না। তাই ২০২২ সালের টেট শংসাপত্র বাতিল করা যায় না। মামলাকারীদের আর এক দলের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানান, টেট পাশের শংসাপত্রের মেয়াদ আজীবন থাকে। তা ছাড়া, রায় ঘোষণার আগের শংসাপত্র বাতিল হবে না বলেই কোর্ট জানিয়েছিল। আগামিকাল, সোমবার এই মামলাটির শুনানি হবে।