রাজ্যসভায় তৃণমূলের মুখ্যসচেতক নাদিমুল হকের নয়াদিল্লির সরকারি বাসভবন-সহ তাঁর কলকাতা, ঝাড়খণ্ডের দফতরে গত কাল তল্লাশি চালিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই ঘটনাকে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ বলে আজ উল্লেখ করছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। বিষয়টিকে ‘অপারেশন লোটাস’-এর দ্বিতীয় পর্ব হিসেবে তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের দাবি, নাদিমুলকে পদত্যাগ করে বিজেপি থেকে ফের দাঁড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তা ফিরিয়ে দেওয়ার খেসারত নাদিমুলকে দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যসভায় দলের নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন।
দলের মুখ্যসচেতকের বাড়ি ও দফতরে তল্লাশির পিছনে বিজেপির হাত রয়েছে বলে সরব হয়েছেন রাজ্যসভার দলনেতা এবং উপদলনেতা। ডেরেক বলেছেন, “এটা অপারেশন লোটাসের দ্বিতীয় পর্ব। লোকসভা, রাজ্যসভার সাংসদ, বিধায়কদের পর এখন জেলাতেও তৃণমূল ভাঙানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তৃণমূলেরই প্রাক্তন এক সাংসদ ও বিধায়ক নাদিমকে পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এক জন সাংসদের সরকারি বাসভবনে অকারণে তল্লাশির বিরুদ্ধে নাদিমুল এবং আমাদের দল আদালতে যাবে।”
ইডি-র এই তল্লাশিকে বিরোধী দলের উপরে আঘাত বলে বর্ণনা করেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার উপনেতা সাগরিকা ঘোষ। আজ তিনি এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘যে তল্লাশির ঘটনা ঘটছে, তা এই নড়ে যাওয়া জমানার পঙ্কিল এবং প্রতিহিংসার রাজনীতির ফল। নাদিমুল হক এক জন পোড়খাওয়া সাংসদ, নামী এবং ঐতিহ্যবাহী উর্দু দৈনিকের প্রকাশক এবং সম্পাদক।তাঁর দিল্লির দফতর, দলীয় দলীয়ও বটে। সেটিকে তল্লাশি করা মানে কোনও ব্যক্তি শুধু নয়, বিরোধী দলের কাজকর্মের উপর আঘাত হানা’। নাদিমুলকে দলত্যাগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল অভিযোগ করে সাগরিকা বলেছেন, “সেই ন্যক্কারজনক অপারেশন লোটাস-এর অংশ হিসেবে অন্য সাংসদদের পাশাপাশি, নাদিমের কাছেও দল ভাঙার প্রস্তাব গিয়েছিল। যাতে সংসদে বেআইনি ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া যায়। নাদিম তা প্রত্যাখ্যান করেন। এর পরে বিজেপি ইডি পাঠিয়েছে। মানুষ দেখছেন বিজেপি নির্লজ্জ ভাবে ইডিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।” আজ কলকাতায় নাদিমুলের বোনের বাড়িতেও তল্লাশি হয়েছে বলে জানাচ্ছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।
আজ ইডি সূত্রে জানানো হয়েছে, ২৪ ঘণ্টার তল্লাশিতে নাদিমুলের সঙ্গে যুক্ত উর্দু সংবাদপত্রে ৬০ কোটি টাকার বেআইনি লেনদেন শনাক্ত হয়েছে। বলা হয়েছে, টাকা পয়সার রেকর্ড এবং ডিজিটাল নথিপত্র খতিয়ে লেনদেনের ‘সন্দেহজনক’ উৎস মিলেছে। হাওয়ালায় টাকা এসেছে কিনা তা-ও দেখা হচ্ছে। খুঁজে দেখা হচ্ছে, তৃণমূলের সঙ্গে এই টাকার সম্পর্কও। সূত্রের খবর, ওই ৬০ কোটি টাকার বেআইনি লেনদেনের হিসাব পাওয়া গেলেও, এখনও তার পুরো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। গত কাল রাঁচি থেকে ফেরার পরে সাংসদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ইডি এখনও এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কাউকে গ্রেফতার করেনি। বিধাননগর থানায় হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতে ইডি তল্লাশি করে।