E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

উদ্যোগী হননি অভিষেক, আক্ষেপ নিলম্বিত কল্যাণের

কল্যাণ জানাচ্ছেন, তিনি যেহেতু সাংসদ পদ থেকে নিলম্বিত হয়ে রয়েছেন, দিল্লিতে আসার জন্য যাতায়াতের টিকিটও পাচ্ছেন না। কারও সঙ্গী হিসেবে আসবেন এমন কোনও ব্যবস্থার কথাও তাঁর দল তৈরি করেনি। ফলে নিজের খরচে এসে তৃণমূলের হয়ে মামলা লড়ছেন, সুপ্রিম কোর্টে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

অগ্নি রায়

শেষ আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৬ ০৮:৩৩
(বাঁ দিকে) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

লোকসভা থেকে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিলম্বিত হওয়ার তিন মাস অতিক্রান্ত। বাদল অধিবেশনের গোড়ায় সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন লোকসভার স্পিকার। শীতকালীন অধিবেশন এসে গেলেও সেই সিদ্ধান্ত বদলানোর জন্য সে ভাবে উদ্যোগী হয়নি তাঁর দল। গোটা বিষয়টি নিয়ে হতাশ কল্যাণের আঙুল দলের লোকসভার নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই। তিনি জানাচ্ছেন, “দলের নেতা যদি এ নিয়ে কিছু না করেন, তাহলে আমার পক্ষে আর কী করা সম্ভব? তিনি দিল্লি আসেন, চলে যান। এ নিয়ে স্পিকারের সচিবালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে অনুরোধ করে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আমাদের লোকসভার নেতা অন্যের সুবিধে অসুবিধেকে পাত্তা দেন না। তিন মাস হয়ে গেল গুরুত্বপূর্ণ যৌথ সংসদীয় কমিটিগুলিতে যোগ দিতে পারছি না, সংসদীয় কমিটির বৈঠকেও না। এতে তো আমার দলেরই লোকসান হচ্ছে। সে সব কথা ভাবার সময় বা ইচ্ছে সম্ভবত নেতৃত্বের নেই। এ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উদ্যোগী হননি, অভিষেকও নয়। আমি কী করতে পারি আর।”

কল্যাণ জানাচ্ছেন, তিনি যেহেতু সাংসদ পদ থেকে নিলম্বিত হয়ে রয়েছেন, দিল্লিতে আসার জন্য যাতায়াতের টিকিটও পাচ্ছেন না। কারও সঙ্গী হিসেবে আসবেন এমন কোনও ব্যবস্থার কথাও তাঁর দল তৈরি করেনি। ফলে নিজের খরচে এসে তৃণমূলের হয়ে মামলা লড়ছেন, সুপ্রিম কোর্টে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জানালেন, “মাঝে মাঝে খুবই একা বোধ করছি।”

২২ জুলাই সংসদে কুকথা বলার অভিযোগে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিলম্বিত করা হয়। তিনি তৃণমূল থেকে দলত্যাগী কিছু সাংসদকে ‘বেইমান’ বলে স্বর তোলেন কক্ষের মধ্যেই। মিতালি বাগ-সহ বেশ কিছু নারী সাংসদের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে দল ছাড়া-সহ বিভিন্ন মন্তব্য করেছিলেন কল্যাণ। নিলম্বিত হওয়ার পরে কল্যাণ জানিয়ে দিয়েছিলেন, রোজ সংসদের বাইরে এসে অবস্থান বিক্ষোভ করবেন। সেই মতো গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে মকর দ্বারের সামনে এসে স্লোগান দেওয়া শুরু করেন তিনি অধিবেশন চলাকালীন। যার বক্তব্য, “বিজেপি-র সঙ্গে ২০ জন বেইমান।” সে সময়ে বার দুয়েক লোকসভার প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়ের নেতৃত্বে ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের অন্য নেতারা স্পিকারের ঘরে যান নিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত বদলের দাবিতে। এক বার রাহুল গান্ধী কে সি বেণুগোপাল, জয়রাম রমেশ, এসপি-র অখিলেশ যাদবকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন সৌগত। জানিয়েছিলেন, “স্পিকার এই নিয়ে বিশেষ আলোচনা করতে চাননি। কেবলমাত্র জানিয়েছেন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে তারপর সিদ্ধান্ত নেবেন।”

ঘটনা হল, শুধুমাত্র মকর দ্বারের সামনেই নয়, কোণঠাসা মমতাপন্থী তৃণমূলে হাতে গোনা কয়েক জন নেতা যাঁরা এখনও নেত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করে যাচ্ছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম কল্যাণ। তৃণমূলের প্রতীক সংক্রান্ত আইনি লড়াই, দলত্যাগী সাংসদদের পদ খারিজের তৎপরতার মতো বিষয়গুলিতে তিনি লড়ছেন। ‘এক দেশ এক ভোট’ সংক্রান্ত কমিটি, বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন বিলের যৌথ কমিটিতে তিনি রয়েছেন তৃণমূলের পক্ষে। কিন্তু গত তিন মাস একটি বৈঠকেও তিনি যোগ দিতে পারেননি বলে আক্ষেপ নিলম্বিত হওয়া সাংসদের।


এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Mamata All India Trinamool Congress

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy