Advertisement
E-Paper

নভেম্বরে পুরভোটের সম্ভাবনা ক্ষীণ, সংশয় প্রস্তুতি নিয়ে, কলকাতা-হাওড়ার বুথভিত্তিক ভোটারতালিকা তৈরি করতে হিমশিম কমিশন

কলকাতা পুরসভার একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রশাসকের মেয়াদ শেষ করে নির্বাচিত পুরবোর্ডের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই কাজ শুরু করেছিল পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:০০
Kolkata-Howrah Civic Polls: November Elections Unlikely as Officials Struggle to Reconcile Ward and Booth Data

কলকাতা পুরসভা। —ফাইল চিত্র।

নভেম্বরে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার ভোট হওয়ার সম্ভাবনা কম। অন্তত প্রশাসনিক প্রস্তুতির গতিপ্রকৃতি তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। কিছু দিন আগেও পরিকল্পনা ছিল, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট করিয়ে ডিসেম্বরের গোড়াতেই গণনা ও নতুন পুরবোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। কিন্তু ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পরে ভোটার তালিকা তৈরির কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা নিয়ে সংশয় দেখা দেওয়ায় সেই পরিকল্পনা কার্যত ধাক্কা খেয়েছে। ডিসেম্বরের আগে ভোট হওয়া এখন প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করছেন প্রশাসনের অভিজ্ঞ কর্তারা।

রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরে কলকাতা পুরসভার একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রশাসকের কার্যকালের মেয়াদ শেষ করে নির্বাচিত পুরবোর্ডের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই কাজ শুরু করেছিল পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশন। কিন্তু বাস্তবে ভোটের প্রস্তুতি যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে নতুন বোর্ড গঠন করা যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মে মাসে রাজ্যে পালাবদলের পরে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস হয়েছে। ১৪৪টি ওয়ার্ডের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২০৯। এর ফলে এক দিকে যেমন বহু ভোটারের ওয়ার্ড বদলেছে, অন্য দিকে পরিবর্তন করতে হয়েছে একাধিক বুথের বিন্যাসও। নতুন সীমানা অনুযায়ী ভোটারদের নাম ও সংশ্লিষ্ট বুথের তথ্য সাজিয়ে খসড়া ভোটার তালিকা তৈরি করতে হচ্ছে কমিশনকে। সেই কাজই সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে।

কমিশন সূত্রের খবর, খসড়া ভোটার তালিকা তৈরির জন্য প্রথমে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে ভোটার-তথ্যের তথ্যভান্ডার নিতে হয়। ১ জুলাইকে ভিত্তি ধরে সেই তথ্য চেয়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। নির্দিষ্ট সময়ে তথ্য হাতে এলেও ওয়ার্ড ও বুথের পরিবর্তনের সঙ্গে তা মিলিয়ে তালিকা প্রস্তুত করা সহজ হচ্ছে না। কলকাতা পুরসভার মোট প্রায় ৪৫০০ বুথের মধ্যে মাত্র ১০০টি বুথ ভাঙতে হয়েছে। তা সত্ত্বেও নতুন ওয়ার্ডের সীমানা অনুযায়ী ভোটারদের সঠিক ভাবে চিহ্নিত করে তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ বেশ জটিল বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তারা। পুজোর মধ্যেও সেই কাজ চালিয়ে যেতে হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কর্মীর অভাব। বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) উপর বর্তমানে জনগণনার কাজের চাপ রয়েছে। পুরভোটের জন্য তাঁদের দায়িত্ব বণ্টনের প্রক্রিয়াও এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে সব রকম চেষ্টা চালিয়েও ৩ নভেম্বরের মধ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এর আগে দু’বার সময়সীমা পিছিয়েছে কমিশন। এ বারও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে ভোটার-তথ্য পেতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে ১ অক্টোবর পর্যন্ত তথ্যভান্ডার চেয়ে পাঠিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তবে ওই তথ্য হাতে পেতে এবং তার ভিত্তিতে তালিকা প্রস্তুত করতে আরও সময় লাগবে। ফলে ভোটের প্রস্তুতিতে নতুন করে বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২ নভেম্বর পুরভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথা ছিল। কিন্তু খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ এবং পরবর্তী প্রস্তুতি শেষ না হলে সেই বিজ্ঞপ্তি জারি করা সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরে নির্বাচনী প্রচারের জন্য অন্তত তিন সপ্তাহ সময় রাখতে হয়। সেই হিসাব ধরলে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট আয়োজনের সম্ভাবনা কার্যত নেই। ডিসেম্বরের আগে ভোট করানো কঠিন। ফলে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা ও হাওড়ায় নতুন পুরবোর্ড গঠনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

Kolkata Civic Polls Howrah Municipal Corporation

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy