নিউ টাউনের একটি বহুতল আবাসনের ফ্ল্যাটে বুধবার রাতে এবং বৃহস্পতিবার সকালে তল্লাশি চালাল বিধাননগর পুলিশ। সেই ফ্ল্যাটেই বসবাস করছিলেন দত্তাবাদের সোনা ব্যবসায়ী স্বপনকামিল্যাকে খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত, জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণ। এ দিন সকালে তল্লাশির সময়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেন ফরেন্সিক দফতরের কর্মীরা। ঘটনাচক্রে, ওই বহুতলেই স্বপনকে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল, যার জেরে তাঁর মৃত্যু হয়।
আদালত একাধিক বার নির্দেশ দিলেও কেন প্রশান্ত বর্মণ এখনও অধরা, সেই প্রশ্ন তুলে নতুন করে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হতে চলেছে কলকাতা হাই কোর্টে। একই প্রশ্নে আগেও জনস্বার্থ মামলা করেছিল মামলাকারী সংগঠন। গত বুধবার হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির এজলাসে মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তুমামলার নথিতে একটি পদ্ধতিগত ত্রুটি নজরে আসায় সেটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। মামলাকারী সংগঠনের তরফে প্রসূন মৈত্র বলেন, “আমরা নতুন করেমামলা করব। আদালত একাধিক বার নির্দেশ দিলেও ওই অভিযুক্তকে ধরা হয়নি। নিশ্চয়ই কোনও প্রভাবশালী তাঁকে আড়াল করছেন। এইমামলার তদন্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধেও গাফিলতির অভিযোগে ব্যবস্থা নিতে ডিজি-কে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।” মামলাকারী সংগঠনের দাবি, তারা জনস্বার্থ মামলা দায়ের করতেই পুলিশ নড়েচড়ে বসেছে, সিট গঠন করেছে। যদিও সবটাই লোক দেখানো তল্লাশি বলেক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংগঠন। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত পুলিশ সরকারি ভাবে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিউ টাউনের যাত্রাগাছি এলাকার খালপাড় থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল দত্তাবাদের সোনা ব্যবসায়ী স্বপনের দেহ। তাঁর পরিবারের তরফে অভিযোগ দায়ের করে জানানো হয় যে, দত্তাবাদের দোকান থেকে ওই ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে গিয়ে নিউ টাউনের ওই বহুতলে মারধর করা হয়। সেই ঘটনার তদন্তে নেমেপুলিশ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে।