দুর্গাপুজোর সময়ে শহরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাতভর বাস, ট্রেন, মেট্রো চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত লোক টেনেছে সেই মেট্রোই। পুজোর কয়েক দিন
যাত্রীদের একটা বড় অংশ দ্রুত এবং নিরাপদ সফরের জন্য মেট্রোর উপরেই সবচেয়ে বেশি নির্ভর করেছেন। এ বারের পুজোয় পঞ্চমী থেকে দশমীর মধ্যে কলকাতা মেট্রোয় ৬১.৫১ লক্ষ যাত্রী সফর করেছেন। যা গত বছরের তুলনায় এক লাফে ১৪.৯৫ লক্ষ বেশি। ২০২৫ সালে ওই সংখ্যা ছিল ৪৬.৫৬ লক্ষ। যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৫.৪১ হাজারের কাছাকাছি
বেড়েছিল।
এ বার ষষ্ঠীতে মেট্রোর সব ক’টি লাইন মিলে এক দিনে ১২.০১ লক্ষ যাত্রী সফর করেছেন। যা এ যাবৎকালের নিরিখে সর্বাধিক। ২০২৫ সালে পঞ্চমীর দিনে ওই সংখ্যা ছিল ৯.৮২ লক্ষ।
ফলে ওই সংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতেও এক দিনে ২ লক্ষ ১৯ হাজার যাত্রী বেশি সফর করেছেন।
মেট্রোর বিভিন্ন স্টেশনের মধ্যে যাত্রী সংখ্যার নিরিখে প্রথম স্থানে রয়েছে দমদম। এ বার পঞ্চমী থেকে দশমীর মধ্যে দমদম স্টেশন থেকে সর্বাধিক ৪.৯৭ লক্ষ যাত্রী টিকিট কেটে মেট্রোয় উঠেছেন। ওই একই সময়কালে কালীঘাট স্টেশন থেকে ৪.৮৩ লক্ষ যাত্রী এবং শিয়ালদহ স্টেশন থেকে ৪.১৯ লক্ষ যাত্রী সফর করেছেন। গত বছর শিয়ালদহ স্টেশন থেকে যাত্রী-সংখ্যা ছিল ২.৬৮ লক্ষ। ফলে এ বার ওই স্টেশন থেকে যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে প্রায় দেড় লক্ষ। এ ছাড়াও যাত্রী বেড়েছে হাওড়া, এসপ্লানেড-সহ একাধিক স্টেশনে।
মেট্রোর কর্তাদের মতে, পূর্ব-পশ্চিম মেট্রো ছাড়াও নোয়াপাড়া-বিমানবন্দর মেট্রোর মাধ্যমে উত্তর-দক্ষিণ মেট্রোর যোগাযোগের ক্ষেত্র উন্মুক্ত হওয়ায় পুজোর কয়েক দিন যাত্রী-সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আগামী বছর সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রো সম্প্রসারিত হলে মেট্রোয় সফরকারী যাত্রীর সংখ্যা আরও অনেকটা বাড়বে বলে মনে করছেন মেট্রোকর্তারা।