যমজ শিশু কেনার অভিযোগে একবালপুর থানা এলাকা থেকে মহম্মদ জুলফিকার নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, কয়েক দিন আগে যমজ ওই দুই শিশুপুত্রকে তাদের মায়ের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকায় কিনে নেয় জুলফিকার। এর পরে গত বুধবার রাতে ওই মহিলা একবালপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সে দিনই গভীর রাতে পুলিশ গ্রেফতার করে জুলফিকারকে। তার স্ত্রীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ধৃতকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
পুলিশ সূত্রের খবর, ওই মহিলা পুলিশকে জানিয়েছেন, তীব্র আর্থিক কষ্টের কারণেই ২০ হাজার টাকায় দু’বছরের দুই যমজ ছেলেকে জুলফিকারের হাতে তুলে দেন তিনি। ওই মহিলা আরও জানান, মাসখানেক আগে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে তীব্র অর্থকষ্টে ভুগছেন তিনি। একটি কাজের সূত্রে জুলফিকারের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। সে তাঁকে জানায়, ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁর দুই যমজ শিশুপুত্রকে দিয়ে দিতে। ছেলেদের দেখাশোনার দায়িত্ব তারা নেবে, মাঝেমধ্যে ছেলেদের সঙ্গে তাদের মা দেখাও করতে পারবেন বলে জানানো হয়। দুই ছেলে ভাল থাকবে ভেবে একবালপুর এলাকার সুধীর বসু রোডের একটি বাড়িতে জুলফিকারের হাতে তিনি ছেলেদের তুলে দেন বলে জানান ওই মহিলা।
কিন্তু পরে ছেলেদের জন্য মন খারাপ করায় এবং নিজের ভুল বুঝতে পেরে বুধবার রাতে একবালপুর থানায় অভিযোগ জানান ওই মহিলা। পুলিশ রাতেই তদন্তে নামে। এক তদন্তকারী অফিসার জানান, ওই মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, একবালপুর এলাকার সুধীর বসু রোডের একটি বাড়িতে দুই ছেলেকে জুলফিকারের হাতে তুলে দিয়েছিলেন তিনি। এর পরেই মহিলাকে নিয়ে সুধীর বসু রোডের বিভিন্ন বাড়িতে যায় পুলিশ। শেষে ওই মহিলা বাড়িটি চিনতে পারলে পুলিশ সেখানে গিয়ে জুলফিকারকে গ্রেফতার করে এবং যমজ শিশুদের উদ্ধার করে। তারা বর্তমানে শিশু কল্যাণ সমিতির দায়িত্বে রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই যমজ শিশুর মায়ের ভোটার কার্ড-সহ বেশ কিছু নথিও নিয়ে রেখেছে জুলফিকার। সেগুলি উদ্ধার করে ওই মহিলার পরিচয়ও যাচাই করা হবে। জুলফিকারের স্ত্রীও এই শিশু বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে অনুমান পুলিশের। তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, ‘‘ধৃত কোনও পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত কিনা, তা জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা চলছে।’’