এত দিন সিনেমার পর্দা কিংবা প্রযুক্তি প্রদর্শনীতেই মানুষের মতো রোবটের দেখা মিলেছে। যত সময় এগোচ্ছে ততই সিনেমার পর্দা থেকে বেরিয়ে বিভিন্ন রেস্তরাঁয় তাদের আবির্ভাব বাড়ছে। এ বার কলকাতা শহরে দেখতে পাওয়া যাবে অত্যাধুনিক ‘হিউম্যানয়েড রোবট’। তথ্যপ্রযুক্তি নগরী সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের এক রেস্তরাঁয় শীঘ্রই আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে এই বিশেষ রোবট। নাচ, ফুটবল, বক্সিং থেকে শুরু করে মানুষের সঙ্গে কথোপকথন— বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে সক্ষম এই রোবটকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রস্তুতি।
রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রায় এক কোটি টাকারও বেশি মূল্যের এই রোবট চিন থেকে আনা হয়েছে। রোবটটির পুরো শরীর মূলত ধাতব। মাথা এবং বিভিন্ন জয়েন্টের অংশে কার্বন ফাইবার ব্যবহার করা হয়েছে। ভিতরে রয়েছে বিভিন্ন মোটর ও গিয়ার। ইনবিল্ট প্রোগ্রামিংয়ের পাশাপাশি মোবাইলের মাধ্যমেও অতিরিক্ত প্রোগ্রামিং করে নতুন কিছু শেখানো সম্ভব বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। রোবটটির ওজন প্রায় ৩৫ কেজি এবং উচ্চতা চার ফুট। বিশেষ প্রশিক্ষণ ও প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে তাকে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হয়েছে। এই কনফিগারেশনের কাজে টিসিএসের বিশেষজ্ঞদেরও সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। প্রায় তিন মাস ধরে চলছে রোবটটির প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির কাজ। প্রাথমিক ভাবে ইংরেজি ভাষাতেই মানুষের সঙ্গে কথোপকথন করতে পারবে রোবটটি। তার সঙ্গে জানে চিনা ভাষাও। বাংলায় কথা বলার ক্ষমতা এখনও তৈরি হয়নি। তবে ভবিষ্যতে বাংলা ভাষাতেও তাকে কথা বলানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
শুধু কথা বলা নয়, রোবটটির রয়েছে একাধিক বিনোদনমূলক দক্ষতা। বক্সিং করা, ফুটবল খেলা, বিভিন্ন ধরনের নাচ, হাত মেলানো কিংবা নির্দিষ্ট অঙ্গভঙ্গি করার মতো কাজও করতে পারে সে। মানুষের সঙ্গে কথোপকথনের সময় তার বক্তব্য অনুযায়ী প্রতিক্রিয়াও জানাতে পারে। নতুন কোনও নাচের স্টেপ বা নির্দিষ্ট কোনও চলাফেরা ‘টিচিং মোড’-এর মাধ্যমে তাকে শেখানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ দল।
এর আগে সল্টলেকের এই রেস্তরাঁয় খাবার পরিবেশনের কাজে রোবট ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছিল। এ বার তার সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও বিনোদনের জন্য তৈরি হিউম্যানয়েড রোবট। ফলে পুজোর মরসুমে সল্টলেকের এই রেস্তরাঁয় খাবারের পাশাপাশি রোবোটিক্সের অভিজ্ঞতাও পাওয়ার সুযোগ মিলতে চলেছে কলকাতাবাসীর।
রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের কথায়, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে মানুষের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং ‘হেল্পিং হ্যান্ড’ হিসেবে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ।”
রেস্তরাঁর উপরের টার্ফ এলাকায় আপাতত রাখা হয়েছে রোবটটিকে। খুব শীঘ্রই সাধারণ মানুষের সামনে তাকে আনা হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে রোবটটিকে পাঞ্জাবি-পায়জামা পরানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। বক্সিং ও নাচের মতো কাজে ধুতির বদলে পায়জামা বেশি সুবিধাজনক হওয়ায় এমন পোশাকের পরিকল্পনা বলে জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি আরও একটি উন্নত সংস্করণের রোবট আনার প্রস্তুতিও চলছে। প্রায় ছয় ফুট উচ্চতার সেই রোবটটি মানুষের দৈনন্দিন কাজে ‘হেল্পিং হ্যান্ড’ হিসেবে ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে। হাতের আঙুলের সূক্ষ্ম নড়াচড়ার মাধ্যমে বিভিন্ন জিনিস ধরা, বোতল খোলা কিংবা রান্নার কাজে সহযোগিতা করার মতো কাজ শেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পুজোর আগেই সেটিকে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ‘রোবট’–এর কারণে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের একটি রেস্তরাঁও সবার নজর কেড়েছে। এখানে খাবার পরিবেশন করে ‘রোবট’ অনন্যা। যাকে দেখতে বহু দূর থেকে লোকজন আসেন।