E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

দীপাবলির আগেই বাজির দাপট, পরীক্ষা কি কঠিন পুলিশের

শব্দবাজির দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে এ বছর নিজেদের কড়া অবস্থানের কথা দিন কয়েক আগেই জানিয়েছিল রাজ্য প্রশাসন। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ জানিয়েছিলেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ অনুমোদিত সবুজ বাজি ছাড়া অন্য কোনও বাজি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

চন্দন বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬ ০৬:১৫
আবেদন: পশুপাখিদের স্বার্থে, অবৈধ শব্দবাজির বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক পদযাত্রা। রবিবার, অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টসের সামনে।

আবেদন: পশুপাখিদের স্বার্থে, অবৈধ শব্দবাজির বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক পদযাত্রা। রবিবার, অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টসের সামনে। ছবি: বিশ্বনাথ বণিক।

বেআইনি শব্দবাজির দৌরাত্ম্য জব্দ করবে কে? দীপাবলির এক সপ্তাহ আগেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হওয়া বাজির তাণ্ডব এই প্রশ্ন তুলছে। শুধু রাতেই নয়, দিনেও মাঝেমধ্যে বাজির বিকট আওয়াজে কেঁপে উঠছে এলাকা। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এমন অভিযোগ শোনা যাচ্ছে।

শব্দবাজির দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে এ বছর নিজেদের কড়া অবস্থানের কথা দিন কয়েক আগেই জানিয়েছিল রাজ্য প্রশাসন। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ জানিয়েছিলেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ অনুমোদিত সবুজ বাজি ছাড়া অন্য কোনও বাজি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে দীপাবলির রাতে ৮টা থেকে ১০টা এবং ছটপুজোর দিন সকাল ৬টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্তই বাজি পোড়ানোর অনুমতি থাকবে বলে তিনি জানান। সেই সঙ্গে পুলিশ এবং দমকলকে পাশে বসিয়ে স্বরাষ্ট্রসচিব জানিয়েছিলেন, ‘সাইলেন্স জ়োন’ অর্থাৎ স্কুল, হাসপাতাল চত্বরের ১০০ মিটারের মধ্যে বাজি যাতে না ফাটে, তা নিশ্চিত করতে কড়া নজরদারি চালানো হবে। রাজ্য এবং কলকাতা পুলিশের শীর্ষ কর্তারাও নজরদারি চালানো নিয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, দীপাবলির এক সপ্তাহ আগে ছবিটা আলাদা। সেই নজরদারির ‘ফাঁক’ খুঁজে শহরের বিভিন্ন এলাকায় শব্দবাজির দাপট বাড়ছে বলে অভিযোগ। এমনকি, অলিগলির ভিতরে দিনেও বাজি ফাটানো হচ্ছে। বেহালা, শখেরবাজার, নিউ আলিপুর, চাঁদনি চক, কাশীপুর, বেলগাছিয়ার একাধিক জায়গা থেকে সেই অভিযোগ করছেন স্থানীয় মানুষ। অনেকে আবার লক্ষ্মীপুজোর দিন থেকেই শব্দবাজির দৌরাত্ম্যের অভিযোগ করছেন। বেহালার বাসিন্দা দীপক ঘোষ বললেন, ‘‘লক্ষ্মীপুজোর দিন মুড়ি-মুড়কির মতো বাজি ফেটেছে। এখন কমলেও বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলতে পারছি না। মাঝেমধ্যেই বিকট শব্দে এলাকা কেঁপে উঠছে। হঠাৎ হঠাৎ বাজির দৌরাত্ম্য হওয়ায় পুলিশকে যে ফোন করে অভিযোগ জানাব, সেই উপায়ও নেই।’’

ফলে আশঙ্কা বাড়ছে, এক সপ্তাহ পরে দীপাবলিতে কী হবে? কতটা লাগাম ছাড়াবে শব্দবাজির দৌরাত্ম্য? সবুজ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক নব দত্ত যদিও জানাচ্ছেন, সেই আশঙ্কা করে ইতিমধ্যেই একাধিক দফতরে তাঁরা চিঠি দিয়েছেন। দেখাও করেছেন কর্তাদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘‘নতুন সরকারের সদিচ্ছা হয়তো আছে। কিন্তু নিষিদ্ধ বাজির উৎপাদন আটকানো না গেলে শব্দবাজির দাপট বন্ধ করা সম্ভব নয়। সবুজ বাজির আড়ালে কারখানায় যে নিষিদ্ধ বাজি তৈরি হচ্ছে না, সেই নিশ্চয়তা কোথায়?’’

যদিও লালবাজার দাবি করেছে, নিষিদ্ধ বাজির দৌরাত্ম্য আটকাতে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শহরের প্রতিটি থানা এবং ডিভিশনে কয়েক জন কর্মীকে নিয়ে দল গড়ে নজরদারি চালাতে এবং বাইক নিয়ে অলিগলি ঘুরতে বলা হয়েছে বাহিনীকে। শহরের ভিতরে যাতে
বাজি মজুত না হতে পারে, তাই শহরের প্রবেশপথের থানাগুলিকে বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শহরতলি বা জেলা থেকে নিষিদ্ধ বাজির শহরে ঢোকা আটকাতে নাকা তল্লাশিতে জোর দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের এক কর্তা জানান, লালবাজারের বিশেষ দলও বেআইনি বাজির বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। শহরের বাজার এবং গুদামে যাতে নিষিদ্ধ বাজি মজুত করে না রাখা হয়, সে দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। বড়বাজার, পোস্তা-সহ একাধিক গুদামে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ বাজি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। হয়েছে গ্রেফতারিও। ওই পুলিশকর্তার কথায়, ‘‘নিষিদ্ধ বাজির দৌরাত্ম্য যাতে লাগাম না ছাড়ায়, সে দিকে নজর রাখা হচ্ছে।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Firecrackers noise pollution Kali Puja Diwali

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy