বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে ‘সমর্থন’ করলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
কয়েকদিন আগেই যাদবপুর এলাকার বাসিন্দা প্রতিমা রায় সল্টলেক সেক্টর ফাইভে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’-এ শর্বরীর বিরুদ্ধে তাঁকে দোকান থেকে উচ্ছেদ করার অভিযোগ করেন। যদিও তখন শর্বরী সেই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন, প্রতিমা অন্যের দোকান অবৈধ ভাবে দখল করে রেখেছেন।
মঙ্গলবার বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তাঁর বাসভবনে একটি কর্মসূচিতে অগ্নিমিত্রা তাঁর সতীর্থ শর্বরীর পাশেই দাঁড়ালেন। তিনি বলেন, ‘‘ক’দিন আগেই অভিযোগ উঠল, শর্বরী দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু তার পর দেখা গেল, ওই দোকানটি অভিযোগকারীর নয়। শর্বরী প্রথম থেকে বলেছিলেন, অভিযোগকারীই ওই দোকান দখল করে রেখেছিলেন।’’ এ প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা ফের ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকে অভিযোগ করা নিয়ে সতর্ক করে বলেন,‘‘কেউ যদি বলে, ‘অগ্নিমিত্রা তোলা চাইছে’, তার মানে তো এই নয় যে অগ্নিমিত্রা তোলা চাইছে। অভিযোগ জানানোর জন্য চারটে হেল্পলাইন নম্বর রয়েছে। মনে রাখবেন যিনি অভিযোগ জানাচ্ছেন, তাঁর নম্বরও রেকর্ড হচ্ছে। যদি দেখা যায় ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে কেউ অভিযোগ জানিয়ে কাউকে ফাঁসাতে চাইছে, তা হলে অভিযোগকারীও কিন্তু পার পাবে না।’’
বিধায়কের বিরুদ্ধে দোকান দখল করানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা পক্ষান্তরে তাঁর পক্ষ নিলেও, নিজের অভিযোগে অনড় প্রতিমা। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানিয়েও তাঁর সমস্যার সমাধান হয়নি। তিনি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে জানান। প্রতিমার দাবি, তিনি ৩০ বছর ধরে ওই দোকান চালাচ্ছেন এবং তাঁর কাছে বৈধ নথি আছে বলেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানানোর সাহস পেয়েছিলেন। প্রতিমার অভিযোগ, ‘‘তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ কিছু মানুষ এখন বিধায়কের ঘনিষ্ঠ হয়েছেন এবং তাঁরাই বিধায়ককে ভুল বোঝাচ্ছেন।’’
যদিও অভিযোগকারীর দাবি মানেননি বিধায়ক। জনতার দরবারে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ হওয়া নিয়ে প্রশ্ন করলে সে দিনই তিনি জানান, অভিযোগকারী প্রতিমা দোকানটি দখল করে রেখেছিলেন। মূল মালিক দোকান উদ্ধার করতে বিধায়কের সাহায্য চাইলে দোকানটি দখলমুক্ত করতে বিজেপির কর্মীরা মধ্যস্থতা করেছিলেন বলে দাবি করেন শর্বরী।
শর্বরীর বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রশ্নে অগ্নিমিত্রা তাঁর পাশে দাঁড়ালেও, বিজেপি নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে রাজ্য বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বকে। সোমবারেই এ প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা বলেছিলেন, ‘‘তোলাবাজির বিষয়টা থেকে তো যাবেই। সবাইকে তো আমরা ডিটার্জেন্ট বা ওয়াশিং মেশিনে ধুয়ে আনিনি। তারা তো রক্তমাংসের মানুষ। এখন সরকারে এসেছে। অনেকে ভাবছে, এ ভাবে রোজগার করব। কিন্তু আমাদের রাজ্য সভাপতি, মুখ্যমন্ত্রী এর বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন।’’
দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য শনিবার মেনে নেন, ‘‘দু’-একটা জায়গায় বিচ্যুতি আছে।’’ তবে সেই ‘বিচ্যুতি’ যে দীর্ঘদিন সহ্য করা হবে না, তা স্পষ্ট জানান বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর কথায়, ‘‘আরও ১৫ দিনের সময় দিচ্ছি আমরা। তার পরে যেটা হবে বুঝতে পারবেন।’’ পরের দিনই মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ একই বিষয়ে নিশানা করেন দলীয় বিধায়কদের একাংশকে।