E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

‘অবৈধ’ নির্মাণ ও পুজো ‘দখলের’ অভিযোগ, বিতর্ক দেশপ্রিয় পার্কে

দেশপ্রিয় পার্কে ‘অবৈধ’ ক্লাবঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। গত ২৪ জুলাই কলকাতা পুরসভা পার্কের ওই নির্মাণ ভেঙে দেওয়ার নোটিস দেয়। যদিও বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।

হিন্দোল ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ১৫ অগস্ট ২০২৬ ০৫:০২
কলকাতা পুরসভা।

কলকাতা পুরসভা। — ফাইল চিত্র।

যে পার্ক এক সময়ে বিকেল হলেই শিশুদের কোলাহলে মুখর হয়ে উঠত, সেই দেশপ্রিয় পার্কে ‘অবৈধ’ ক্লাবঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। গত ২৪ জুলাই কলকাতা পুরসভা পার্কের ওই নির্মাণ ভেঙে দেওয়ার নোটিস দেয়। যদিও বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০২১ সালের আগে পার্কের ওই অংশটি সকলের জন্য খোলা থাকত। পাড়ার শিশুরা সেখানে খেলত, প্রবীণেরা প্রাতর্ভ্রমণ করতেন। পরে মাঠের একাংশ দখল করে বালিগঞ্জ সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি, অর্থাৎ দেশপ্রিয় পার্ক দুর্গোৎসবের ক্লাবঘর তৈরি করা হয়।

এই ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে তৎকালীন কমিটির সদস্য সুভাষ কুমার, প্রয়াত সুদীপ্ত কুমার এবং তৎকালীন সভাপতি হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। বাসিন্দাদের দাবি, পরে ওই নির্মাণ ‘হেরিটেজ ক্লাব’ নামে ভাড়া দেওয়া হত। যদিও সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি, নির্মাণটি কলকাতা পুরসভাই তৈরি করে দিয়েছিল। অভিযোগ প্রসঙ্গে সুভাষ কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে চাননি। কমিটির সংবাদমাধ্যম মুখপাত্র অভিষেক দে বিশ্বাস বলেন, “আমরা ক্লাব উচ্ছেদের বিষয়ে আদালতে রিট পিটিশন করেছি। আগামী ২৭ অগস্ট শুনানি রয়েছে। এর বেশি কিছু বলা উচিত হবে না।” এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, ২০২১ সালের আগে পুজোর সমস্ত কাজ ৫বি, মতিলাল নেহরু রোডের অফিস থেকেই পরিচালিত হত। ফলে, নতুন ক্লাবঘরের কোনও প্রয়োজন ছিল না। তাঁদের অভিযোগ, বিতর্কিত নির্মাণটি পুরনো কমিটির সিদ্ধান্তে হয়েছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ দেখা গেলেও পুরনো কমিটি এখনও সমস্ত নথি হস্তান্তর করেনি।

এ দিকে, শুক্রবার বালিগঞ্জ সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির নামে প্রকাশিত এক প্রেস বিবৃতি ও ভিডিয়োয় দাবি করা হয়েছে, ৯ অগস্ট রাতে এক দল বহিরাগত পুজো প্রাঙ্গণে ঢুকে সদস্যদের হুমকি দেয় ও নির্মীয়মাণ মণ্ডপে ভাঙচুর চালায়। ঘটনার ভিডিয়ো পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটির সদস্য সোমনাথ সিংহ বলেন, “ভাঙচুরের অভিযোগ ঠিক নয়। পুরনো কমিটির বৈধতা না থাকায় মণ্ডপের কয়েকটি বাঁশ খোলা হয়েছে। আমরা চাই, সকলকে নিয়ে স্বচ্ছ ভাবে পুজো হোক।”

স্থানীয় বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্তের বক্তব্য, মণ্ডপে ভাঙচুরের অভিযোগের সত্যতা তাঁদের যাচাইয়ে মেলেনি। মূল বিষয়টি দুই কমিটির বিরোধ এবং পার্কে নির্মাণ নিয়ে পুরসভা ও আদালতের প্রক্রিয়া। এলাকার এক মহিলা বলেন, “আমরা চাই, যেখানে বাচ্চারা খেলত, সেই জায়গাটা আবার সকলের জন্য খুলে দেওয়া হোক।” প্রবীণ বাসিন্দা সন্দীপ দিয়াসির কথায়, “এই পুজো আর পার্ক এলাকার মানুষের, কোনও ব্যক্তি বা কমিটির একার নয়।”

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Kolkata Municpal Corporation deshapriya park KMC

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy