রাত বাড়লেই প্রতিদিন এলাকার বিভিন্ন বাড়ি লক্ষ্য করে ইট মারার অভিযোগ উঠছিল এক যুবকের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধেই এ বার একটি পরিবারের তিন ভাইকে ছুরি ও উইকেট দিয়ে আক্রমণ করার অভিযোগ উঠল। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই তিন ভাই— হাসান মীর, নজরুলইসলাম মীর এবং নাজিবুল ইসলাম মীরকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা চলাকালীন দুপুরে মারা যান মীর। বাকি দুইভাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার বাঁকড়াথানার রসিকল এলাকায়। ঘটনার পরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীরা অভিযুক্ত গুড্ডু শেখকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। তার পরে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত শনিবার বেশি রাতে। হাসান জানিয়েছেন,সে দিন গভীর রাতে তাঁদের বাড়িতে পর পর দু’টি ইট এসে পড়ে। তড়িঘড়ি তাঁরা বেরিয়ে এসে দেখেন, সন্দেহজনক ভাবে ঘোরাঘুরি করছে গুড্ডু। হাসানরা তাকে দেখে নিশ্চিত হন, সে-ই অন্য দিনের মতো তাঁদের বাড়িতে ইট ছুড়েছে।হাসান জানান, গুড্ডুকে সে কথা বলতেই সে উত্তেজিত হয়ে জানায়, ইট সে-ই ছুড়েছে। বেশ করেছে। অভিযোগ, এর পরে বাড়ি থেকে একটি ধারালো অস্ত্র এনে হাসান-সহ তিন ভাইকে রাতেই খুন করারহুমকি দেয় অভিযুক্ত। এলাকার লোকজন তাকে ধরে বাড়িতে ঢুকিয়ে দিলে তখনকার মতো সমস্যা মিটে যায়।
এ দিন সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ যখন হাসান সবে কাজে বেরিয়েছেন, তখন গুড্ডু তাঁকে দেখতে পেয়ে তাড়া করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পেটে বার বার আঘাত করে। হাসানের চিৎকারে ছুটে আসেন তাঁর দুই দাদা নজরুল ও নাজিবুল। গুড্ডু তখন উইকেট ও ছুরি নিয়ে তাঁদের উপরেও হামলা চালায়। ঘটনাটি দেখে ছুটে আসেন স্থানীয় লোকজন। তাঁরাই গুড্ডুকে ধরে ফেলে মারধর শুরু করেন। খবর দেওয়া হয় বাঁকড়া থানায়। পুলিশএসে গুড্ডুকে গ্রেফতার করে। আহত তিন ভাইকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি করলে এ দিন দুপুরে সেখানে মারা যান পরিবারের ছোট ছেলে হাসান।
মৃতের বড় বৌদি মিনারা বেগম বলেন, ‘‘গুড্ডু মাঝেমধ্যেই পাড়ার বিভিন্ন বাড়িতে রাতে ইট ছোড়ে। এর আগেও আমাদের বাড়িতে ছুড়েছে। গতকাল ধরা পড়ে যেতেই আজ আমার স্বামী-সহ দুই দেওরকে ছুরি, উইকেট নিয়ে আক্রমণ করে।’’
হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘কেন এই ঘটনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি ছুরি ও উইকেট উদ্ধার করেছে। ওই যুবককে খুন এবং খুনের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।’’