শিক্ষক দিবসে ভাঙা হল ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি!
বিদ্যাসাগরের নামাঙ্কিত একটি শিশু উদ্যানে তাঁরই আবক্ষ মূর্তি ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকালে এই ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় বারুইপুর পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, ওই এলাকায় বিদ্যাসাগরের নামাঙ্কিত শিশু উদ্যানে তাঁর আবক্ষ মূর্তিটি দীর্ঘ দিন ধরে রয়েছে একটি বেদির উপরে। কিন্তু এ দিন সকালে দেখা যায়, মূর্তিটি বেদির পাশে উদ্যানের মাটিতে পড়ে রয়েছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, মূর্তিটি বেদি থেকে কোনও ভাবে পড়ে গিয়েছে কিনা। যদিও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মূর্তিটি যে ভাবে পড়ে ছিল, তাতে দুর্ঘটনাজনিত কারণে সেটি ভেঙে পড়েছে বলে মনে হয়নি। বরং কেউ সেটি ইচ্ছাকৃত ভাবে ভেঙে ফেলে দিয়েছে বলেই অভিযোগ তাঁদের।
শিক্ষক দিবসে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ঘটনায় চাপান-উতোর শুরু হয়। কে বা কারা মূর্তিটি ভাঙল, তা খুঁজে বার করতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান এলাকাবাসী। বেদির উপরে সিমেন্ট দিয়ে বসানো ছিল মূর্তিটি। ফলে, সেটি ভেঙে ফেলতে যথেষ্ট জোর দিতে হয়েছে বলেই জানান অনেকে। পরিকল্পনা করেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
খবর পেয়ে বারুইপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে পুরসভার তরফে বেদির উপরে সিমেন্ট দিয়ে মূর্তিটি পুনরায় বসিয়ে দেওয়া হয়। পুরপ্রধান শক্তি রায়চৌধুরী বলেন, ‘‘অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। বিদ্যাসাগর আমাদের অক্ষর শিখিয়েছেন। শিক্ষক দিবসে তাঁর মূর্তি ভাঙার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’’
ঘটনাটির তীব্র নিন্দা করেছেন বারুইপুরের বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, ‘‘এই ঘটনা একেবারেই অনভিপ্রেত। বিশেষ করে, শিক্ষক দিবসে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।’’ স্থানীয় বিজেপি নেতা বিশ্বজিৎ পাল বলেন, ‘‘এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। আমরা বরাবরই দেশের মনীষীদের শ্রদ্ধা জানিয়ে এসেছি। বিদ্যাসাগরের মূর্তি নিয়ে এই ঘটনা যারাই ঘটিয়ে থাকুক, ঠিক করেনি। প্রশাসন তদন্ত করুক। যে-ই জড়িত থাক, রাজনীতি না দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’’
পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে, এ ব্যাপারে এখনও থানায় কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত হবে।