দুর্গাপুজোর জন্য ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন পাড়ার ক্লাবের সদস্যেরা। কিন্তু পেশায় আইনজীবী এক ব্যক্তি অত টাকা দিতে না চাওয়ায় তাঁকে রাস্তায় ফেলে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ক্লাবের সদস্যদের বিরুদ্ধে। মণিময় অধিকারী নামে ওই আইনজীবী এবং তাঁর স্ত্রী সোমা অধিকারী ট্যাংরা ও প্রগতি ময়দান থানায় পাঁচ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনায় জড়িতেরা সকলে বিজেপি কর্মী-সমর্থক বলে অভিযোগ মণিময়ের। যদিও বিজেপি সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, প্রগতি ময়দান থানা এলাকার ধাপার রাজারঘাট-নতুনপাড়ার বাসিন্দা মণিময় আলিপুর পুলিশ আদালতের আইনজীবী। দুর্গাপুজোয় মোটা টাকা চাঁদা দেওয়ার জন্য পুজোর আগে থেকেই তাঁর উপরে পাড়ার ক্লাবের সদস্যেরা চাপ দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। মণিময় জানান, সোমবার রাত ১২টা নাগাদ তিনি বাড়ি থেকে রাস্তায় হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। তখনই তাঁর উপরে হামলা চালানো হয়। মণিময়ের স্ত্রী সোমাও শিয়ালদহ আদালতের আইনজীবী। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘‘রাতে আমি তখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। আমার স্বামী প্রতি রাতের মতো হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। হঠাৎ শুনি, বাড়ির জানলায় বিকট আওয়াজ। ঝনঝন করে জানলার কাচ ভেঙে পড়ল। আমি প্রচণ্ড ভয় পেয়ে চিৎকার করতেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।’’
সোমার কথায়, ‘‘আমার স্বামী বাড়ির সামনেই রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করেন। ওঁকে সেখানে দেখতে না পেয়ে মোবাইলে ফোন করি। কিন্তু ফোন বেজে যায়।’’ এর প্রায় মিনিট ২০ পরে থানা থেকে সোমার কাছে ফোন আসে। তাঁকে জানানো হয়, মণিময় দুষ্কৃতীদের হাতে মারধর খেয়েছেন। তার পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করেছে। সোমা থানার উদ্দেশে রওনা দেন। তাঁর অভিযোগ, ‘‘পাঁচ-ছ’জন মিলে আমার স্বামীকে কিল, ঘুষি মেরে রাস্তায় ফেলে দেয়। তিনি জ্ঞান হারান। এর পরে দুষ্কৃতীরা আমাদের বাড়িতে ইট ছুড়ে কাচ ভেঙে দেয়।’’ সোমার অভিযোগ, ‘‘আমার স্বামীকে মারধরের সময়ে স্থানীয় এক বিজেপি কর্মী সেখানে ছিলেন। বাকিদেরও বিজেপির মিছিলে দেখা গিয়েছে।’’ যদিও বিজেপির মুখপাত্র সপ্তর্ষি চৌধুরী বলেন, ‘‘এটা বিজেপির সংস্কৃতি নয়। যদি বিজেপির নাম করে কেউ কিছু করে থাকে, পুলিশ-প্রশাসন গোটা বিষয়টি দেখবে। আইন আইনের পথে চলবে।’’
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময়ে মণিময়ের ফোনটি রাস্তায় পড়ে যায়। পরে পুলিশ গিয়ে ওই ফোন উদ্ধার করে। ওই ঘটনার পর থেকে মণিময় মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত। প্রগতি ময়দান থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। পুলিশ সূত্রের খবর, মণিময়কে মারধরের ঘটনা ঘটে ট্যাংরা থানা এলাকায়। যে কারণে মণিময় ট্যাংরা থানায় পাঁচ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। আবার মণিময়ের বাড়ি প্রগতি ময়দান থানা এলাকায়। দুষ্কৃতীরা তাঁর বাড়ির জানলার কাচ ভাঙা ছাড়াও বাড়ির সামনে থাকা দু’টি মোটরবাইক ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ। তাই সোমবার রাতে সোমা প্রগতি ময়দান থানায় জানলার কাচ ও বাইক ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করেন।