দুর্ঘটনার পরে আশ্বাস মিলেছিল সরকারি অর্থসাহায্যের। কিন্তু ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও সেই টাকা হাতে পাওয়া তো দূর অস্ত, সরকারি তরফে কোনও যোগাযোগও করা হয়নি বলেই অভিযোগ। তাই পরবর্তী চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তারাপীঠের হোটেলের অগ্নিকাণ্ডে জখম এক বৃদ্ধা ও তাঁর মেয়েকে। আরও অভিযোগ, সরকারি স্তরে কোথায় গেলে চিকিৎসা মিলবে, সেই সম্পর্কেও তাঁরা দিশাহারা।
অগ্নিকাণ্ডে জখম ওই দু’জনকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়েই পুলিশ দায় সেরেছিল বলে অভিযোগ। প্রশ্ন উঠছে, হোটেলের অনিয়মের খেসারত কেন দিতে হবে ওই আহতদের? তাঁদের বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা থেকে পরবর্তী চিকিৎসার বন্দোবস্ত কি সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না? দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী বলেন, ‘‘আমি খোঁজ নিচ্ছি। ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে অবশ্যই চেষ্টা করব।’’
গত সোমবার তারাপীঠের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ন’জনের মৃত্যু হয়। আহত হয়েছিলেন বেশ কয়েক জন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও ওই ঘটনায় শোকবার্তা দিয়েছিলেন। ওই হোটেলেই ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার বাসিন্দা ৭২ বছরের কল্যাণী মণ্ডল ও তাঁর মেয়ে মুনমুন। মুনমুন জানাচ্ছেন, আগুন লেগেছে বুঝতে পেরে তিনি মাকে শৌচাগারে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। সাহায্যের জন্য বাইরে বেরোতে গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে থুতনি ফেটে যায় মুনমুনের। তিনি সেখানেই জ্ঞান হারান। পরে তাঁর পাশাপাশি কল্যাণীকেও উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।
মুনমুনের দাবি, ‘‘পরনে নাইটি ছাড়া আর কিছু ছিল না। সব পুড়ে গিয়েছিল। পুলিশকে অনুরোধ করেছিলাম যদি বাদুড়িয়া ফেরার একটু ব্যবস্থা করে দেয়। কিন্তু পুলিশ অনুরোধ রাখেনি। শেষে পরিচিতদের সাহায্যে কোনও ভাবে বাড়ি ফিরেছি।’’ ধোঁয়া ঢুকে মুনমুনের গলার স্বর ভেঙেছে। কথা বলতে গেলেই গলা ধরে যাচ্ছে। শয্যাশায়ী তাঁর বৃদ্ধা মা-ও। মুনমুনের থুতনিতে একাধিক সেলাই পড়েছিল। এখনও ব্যান্ডেজ রয়েছে। নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়ে মুনমুনের দাবি, সাহায্যের জন্য কেউ যোগাযোগ করেনি। কোন হাসপাতালে গিয়ে কাকে দেখাবেন, তা-ও তাঁরা জানেন না। তবে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক বুরহানুর মুকাদ্দিম (লিটন) ফোন করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘ওঁদের খবর পেয়ে আমি যোগাযোগ করেছিলাম। চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেছি। কিছু পরীক্ষার প্রয়োজন। সোমবার সেগুলি করানোর চেষ্টা করছি।’’
মুনমুনকে একাধিক ব্যয়বহুল শারীরিক পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। কিন্তু অর্থের অভাবে সেই পরীক্ষা যে তিনি করাতে পারেননি, তা-ও উল্লেখ করা হয়েছে প্রেসক্রিপশনে। মুনমুন বলেন, ‘‘কষ্ট করে ওষুধ কিনেছি। পরীক্ষার খরচ করতে পারব না বলে বিধায়ককে জানিয়েছিলাম। তিনি ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন।’’
রাজ্যের দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী ঘোষণা করেছিলেন, আহতদের পরিবার পিছু দু’লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। এমনকি, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণাও হয়েছিল। বাস্তবে এখনও সাহায্যের অপেক্ষায় কল্যাণী ও মুনমুন।