চোরবাগান সর্বজনীনে প্রতিমা দর্শনে গিয়ে পদপিষ্টের ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুর পরে পুলিশের গাফিলতি নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন পদে কর্মীদের ঘাটতির কথাও উঠে এসেছে। এ বার নিচুতলার পুলিশকর্মীর ঘাটতি মেটাতে এবং পুজোর ভিড় সামলাতে রাজ্য পুলিশে সদ্য নিয়োগ হওয়া প্রায় ১৮০০ রিক্রুট কনস্টেবলকে পাঠানো হয়েছে কলকাতায়। সোমবার থেকে তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় ডিউটি শুরু করেছেন। যাঁদের মধ্যে মহিলা রিক্রুটকনস্টেবল ৪৫০ জন।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহেই ওই কর্মীদের রাজ্য পুলিশের বাহিনীতে নিয়োগ করা হয়। রাজ্যের ১৬টি কেন্দ্রে পাঁচ দিনের প্রাথমিক প্রশিক্ষণের পরে তাঁদের পুজোর দায়িত্বে বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছিল। সূত্রের খবর, ১৭টি জেলা এবং পুলিশ কমিশনারেটে পুজোর ডিউটিতে থাকা ওই রিক্রুট কনস্টেবলদের কলকাতাপুলিশকে সাহায্য করতে আনা হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত তাঁরা কলকাতা পুলিশের অধীন পুজো মণ্ডপে ডিউটি করবেন বলে প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছে।
কলকাতা পুলিশ এলাকায় কাজে অভিজ্ঞ এবং বর্তমানে রাজ্য পুলিশের দায়িত্বে থাকা আইপিএসদের শনিবারের বিপর্যয়ের পরদিন, রবিবারেই নিয়ে আসা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের একাংশের দুর্গাপুজোর ভিড়সামলানোর অভিজ্ঞতা নেই বলে এই সিদ্ধান্ত।
লালবাজার সূত্রের খবর, ওই রিক্রুট কনস্টেবলদের মধ্যে ১৭১ জনকে রাজ্য পুলিশ থেকে আসা ৯ জন আইপিএস অফিসারের অধীনে ডিউটি দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যেথাকছেন ১৫ জন পুরুষ রিক্রুট কনস্টেবল এবং চার জন মহিলা রিক্রুট কনস্টেবল। বাকি রিক্রুট কনস্টেবলদের কলকাতা পুলিশের দশটি ডিভিশনের উপনগরপালের অধীনে মণ্ডপের ভিড় সামলানোর কাজে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, কলকাতা পুলিশে নিচুতলার বিভিন্ন পদে বিপুল ঘাটতি। তা ঢাকতে কয়েক বছর ধরেই পুজোর ভিড় সামলানোর কাজে অস্থায়ী হোমগার্ড নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, যে কনস্টেবলদের রাজ্য পুলিশ থেকে আনা হল, তাঁরা কলকাতার পুজো সম্পর্কে অনভিজ্ঞ। পুলিশের একাংশের অভিযোগ, ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন কলকাতা পুলিশের থানা স্তরে ওসিদের মধ্যে ব্যাপক রদবদল করেছিল। ফলেবিভিন্ন থানার ওসি পদাধিকারীদের কলকাতার পুজো সামলানোর অভিজ্ঞতা প্রায় নেই।
যে ৯ জন রাজ্য পুলিশের আইপিএস-কে কলকাতার বিভিন্ন পুজো মণ্ডপ বা আবাসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁদের নাম প্রকাশ করেছে লালবাজার। ডিআইজি (ট্র্যাফিক) শুভঙ্কর ভট্টাচার্যকে একডালিয়া এভারগ্রিন পুজো মণ্ডপের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজ্য পুলিশের আইজি (ট্র্যাফিক) মিরাজ খালিদকে রাসবিহারী কমপ্লেক্স, মুদিয়ালি এবং শিবমন্দিরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাটুলি কেন্দুয়ার দায়িত্ব পেয়েছেন রাজ্য আইবির আইজি (বর্ডার) সুমনজিৎ রায়। আইজি ট্র্যাফিক মেহমুদ আখতারকে বলা হয়েছে কলেজ স্কোয়্যারের পুলিশি ব্যবস্থা দেখতে।রাজ্য পুলিশ ডিআইজি (এসটিএফ) রূপেশ কুমার, ডিআইজি সিআইডি তরুণ হালদার ও এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের (এসএস) সৌম্য রায়কে দেওয়া হয়েছে যথাক্রমে ত্রিধারা, আহিরীটোলা সর্বজনীন এবং হিন্দুস্থান পার্ক-সহ ওই এলাকার আরও দু’টি পুজোর দায়িত্ব।রাজ্য পুলিশের ট্র্যাফিকের এসপি প্রিয়ব্রত রায় পেয়েছেন চেতলা অগ্রণীর দায়িত্ব। সিআইডির (স্পেশ্যাল সুপার) দীপক সরকারকে দেওয়া হয়েছে জগৎ মুখার্জি পার্কের পুজোর দায়িত্ব।
চোরবাগান সর্বজনীনে বিপর্যয়ের পরে নড়ে বসেছেন কলকাতা পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। কলকাতার যে সব মণ্ডপে ভিড় বেশি হয়, সেখানে বার বার ঘুরে যাচ্ছেন তাঁরা। দর্শকদের বেরোনো এবং ঢোকার পথ ঠিক আছে কিনা, সেটিও একাধিক বার দেখছেন পুলিশের ওই কর্তারা।