হাওড়া পুরসভার আসন্ন নির্বাচনের জন্য প্রধান বিরোধী দল ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল এবং কালীঘাট তৃণমূল যখন কার্যত অস্তিত্বের সঙ্কটে ভুগছে, তখন পুরভোটে প্রার্থী হওয়ার জন্য বিজেপির জেলা ও রাজ্য অফিসে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ৬৮টি ওয়ার্ডে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রায় তিন হাজার আবেদন জমা পড়েছে। অর্থাৎ, এক-একটি আসনে গড়ে ৪০টিরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। যা থেকে ৬৮ জনকে বাছতে প্রায় হিমশিম অবস্থা বিজেপি নেতৃত্বের। সূত্রের খবর, আবেদনকারীদের মধ্যে কারা প্রকৃত বিজেপি আর কারা ৪ মে-র পরে ‘তৎকাল বিজেপি’ হয়েছেন, তা এখনও দলীয় নেতৃত্বের কাছে পরিষ্কার হয়নি। তাই চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাইয়ের ব্যাপারে জেলার ১৫ জন বর্ষীয়ান পদাধিকারীর সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সাংগঠনিক সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী এবং হাওড়ার দায়িত্বে থাকা রাহুল সিংহ। অর্থাৎ, হাওড়া পুরভোটে প্রার্থী নির্বাচনে শেষ কথা বলবেন রাজ্য নেতৃত্বই।
গত বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্য জুড়ে তৃণমূলের ভরাডুবির তালিকায় ছিল হাওড়াও। যদিও হাওড়া পুর এলাকার চারটি বিধানসভা আসনের দু’টিতে তারা জয়ী হয়। পালাবদলের পরে দুর্নীতি ও বকেয়া নানা মামলায় প্রাক্তন মেয়র পারিষদ শ্যামল মিত্র থেকে শুরু করে ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল পুরপ্রতিনিধি শৈলেশ রাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উত্তর হাওড়ায় পরাজিত হওয়ার পরে জেলার প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি গৌতম চৌধুরীকে আর রাজনীতির ময়দানে দেখা যায়নি। তাঁর দলীয় কার্যালয়ও বুলডোজ়ার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মধ্য হাওড়া তথা হাওড়া জেলা তৃণমূলের প্রবীণ নেতা অরূপ রায় ঋতব্রত তৃণমূলে যোগ দিয়ে চেয়ারম্যান হয়ে যাওয়ায় হাওড়ায় তৃণমূল কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুই তৃণমূল এখনও পর্যন্ত প্রার্থী তালিকা তৈরি তো দূর, দলীয় কার্যালয় খুলেও বসতে পারেনি।
অন্য দিকে, বিজেপির জেলা অফিস ও মণ্ডল সভাপতিদের অফিসে আসন্ন পুরভোটের সমস্ত প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে ফেলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই হাওড়া পুরসভা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাহুল সিংহ দফায় দফায় এসে জেলার নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করে গিয়েছেন। রাহুল বলেন, ‘‘আমরা পরিষ্কার বলেছি, যাঁরা বিজেপি করেন ও যাঁদের জেতার সম্ভাবনা রয়েছে, সেই রকম লোককে টিকিট দেওয়া হবে।’’
বিজেপি সূত্রের খবর, এত বেশি আবেদন জমা পড়ায় আগামী শনিবার কদমতলায় এক সভায় পূর্ণাঙ্গ মণ্ডল কমিটি, পাঁচটি ওয়ার্ডের আহ্বায়ক, মণ্ডলের সমস্ত শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ, দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি ও বর্ষীয়ান নেতাদের নিয়ে বৈঠক করবেন রাজ্য নেতৃত্ব। সেই বৈঠকের নির্যাস নিয়ে দলের কোর কমিটির সঙ্গে বৈঠকের পরে যে সিদ্ধান্ত হবে, তা রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পৌঁছবে এবং তার পরেই বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। যদিও তাঁদের একাংশের বক্তব্য, বেশির ভাগ ওয়ার্ডের প্রার্থী নির্বাচন হয়ে গিয়েছে। কিছু অবশিষ্ট আছে, যা রাজ্য নেতৃত্ব চূড়ান্ত করবেন। আগামী মাসের ৪-৫ তারিখের মধ্যে হাওড়া পুরভোটের বিজেপির প্রার্থী তালিকা তৈরি হয়ে যাবে।