তিন কোটি থেকে বাজেট এক ধাক্কায় নেমে এল ২৫ লক্ষে।
কলকাতা পুলিশের আলিপুর বডিগার্ড লাইন্সের সর্বজনীন দুর্গোৎসবে ছন্দপতন। গত কয়েক বছরের পরিপ্রেক্ষিতে এ বারের পুজো অনেকটাই জৌলুসহীন। প্রসঙ্গত, ওই পুজোর সর্বোচ্চ কর্তা ছিলেন পুলিশ ওয়েলফেয়ার কমিটির শীর্ষ কর্তা, প্রাক্তন উপনগরপাল শান্তনু সিংহ বিশ্বাস। বর্তমানে তিনি জোর করে জমি দখল এবং ওই জমিতে বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত ইডি-র মামলায় জেল হেফাজতে। শান্তনুর বিরুদ্ধে পুলিশ আবাসনের সর্বজনীন দুর্গাপুজোয় কোটি টাকার দুর্নীতির তদন্তও করছে ইডি এবং কলকাতা পুলিশ।
অভিযোগ, প্রতি বছর দুর্গাপুজোর নামে শান্তনু ও তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েক জন পুলিশ অফিসার নানা ভাবে বাজার থেকে কোটি কোটি টাকা তোলার পরে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পাচার করেছিলেন। পুজোর তহবিলে টাকা জমা পড়েনি। আদালতে জমা দেওয়া নথিতেও তার উল্লেখ করেছে তদন্তকারী সংস্থা।
বিষয়টি সামনে আসার পরেই ২০২৬ সালের পুলিশ আবাসনের পুজোয় নজরদারি বেড়েছে। আয়োজকদের দাবি, ওই পুজোকে দুর্নীতির জালে বন্দি করে ফেলেছিলেন শান্তনু ও তাঁর ঘনিষ্ঠ অফিসারের দল। এ বছর ওই পুজোর চাঁদার উৎস থেকে প্রতিমা, মণ্ডপ, আলোকসজ্জা এবং ভোগ ও প্রসাদ বিতরণ— সব ক্ষেত্রেই রয়েছে লালবাজারের কর্তাদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি।
দুর্গাপুজোর আগে থেকেই কলকাতা পুলিশের অধিকাংশ অফিসার যান নিয়ন্ত্রণ থেকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে চরম ব্যস্ত থাকেন। তা সত্ত্বেও কলকাতা পুলিশের কর্মীদের একমাত্র দুর্গোৎসব আলিপুর বডিগার্ড লাইন্সের পুজো। তাতে শামিল হন কলকাতা পুলিশের কর্মী-আধিকারিকদের অধিকাংশের পরিবারের সদস্যেরা।
পুজোর আয়োজকেরা জানাচ্ছেন, কলকাতায় একমাত্র এই পুজোয় হিন্দু এবং নেপালি সংস্কৃতির দু’টি পুজো একই মণ্ডপে সংগঠিত হয়। কলকাতা পুলিশের নেপালি কর্মীরা মহালয়া থেকে অষ্টমী পর্যন্ত তাঁদের শাস্ত্র অনুযায়ী পুজো করেন। পাশাপাশি, ষষ্ঠী থেকে থেকে দশমী পর্যন্ত হিন্দু রীতি মেনে ওই পুজো করা হয়। বাঙালি এবং নেপালি সংস্কৃতি পুজোর ওই কয়েক দিনে মিলেমিশে যায়।
তবে এ বারের পুজোয় রীতি ও আচার, প্রতিমা এবং ভোগের উপরে জোর দেওয়া হয়েছে। বাহ্যিক আনুষঙ্গিক নানা খরচ বাতিল করে কম বাজেটে পুজোর প্রস্তুতি চলছে। বিগত সরকারের আমলে ওই পুজোর উদ্বোধন করতেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বছর খুঁটিপুজোয় উপস্থিত ছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও তিনি থাকবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
একটি মন্দিরের আদলে বাঁশ, কাঠ ও প্লাইউড দিয়ে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। সাবেক দশভূজা প্রতিমা। মণ্ডপ ও প্রতিমার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আলোকসজ্জার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
আয়োজকদের দাবি, বিপুল বাজেটের জাঁকজমকপূর্ণ পুজো
নয়, আচার ও রীতি অনুযায়ী পুজোয় মেতে উঠবেন পুলিশকর্মীদের পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি, পুজো কমিটির উদ্যোগেই প্রবীণ আবাসিকদের শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বাসে কলকাতার বিখ্যাত কয়েকটি মণ্ডপে নিয়ে যাওয়া হবে।